দত্তপুকুর পুলিশ ফাঁড়ির গোডাউনে বিস্ফোরণ! উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ বাজি ও বাজির মশলাতে আগুন। মঙ্গলবার ভোরে সেখান থেকেই পরপর বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা ফাঁড়ি চত্বরে। বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। খবর পেয়ে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েকটি গাড়ি, মোটরবাইক এবং পাশের কয়েকটি দোকান। উদ্ধার হওয়া বাজি নির্দিষ্ট নিয়মে নিষ্ক্রিয় না করে ফাঁড়িতে মজুত রাখার অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দত্তপুকুর থানার নারায়ণপুর ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি বাজি তৈরির অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া বাজি ও কাঁচামাল নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির গোডাউনে রাখা হয়েছিল। এলাকাবাসীর দাবি, এ দিন সকাল প্রায় ছ’টা নাগাদ প্রথমে টিনের ড্রামে রাখা বাজির মশলায় আগুন লাগে। তারপর একের পর এক বিস্ফোরণ হতে থাকে। ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা। ফাঁড়ির উপরতলায় থাকা একটি পরিবারকেও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের প্রশ্ন, উদ্ধার হওয়া বাজি দ্রুত নিষ্ক্রিয় না করে ফাঁড়িতে মজুত রাখা হল কেন? এ নিয়ে বারাসত জেলা পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, “উদ্ধার হওয়া বাজিগুলি ফাঁড়ি চত্বরে রাখা ছিল। কোনওভাবে সেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে। এটি একটি দুর্ঘটনা। কেউ আহত হননি।” প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে নীলগঞ্জের মোচপোলের ভয়াবহ বাজি বিস্ফোরণে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনার স্মৃতি এদিন ফের সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর কিছুদিন বেআইনি বাজি কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চললেও পরে নজরদারি শিথিল হয়ে পড়ে। তারপর এই কাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
