‘জঙ্গি’ পাইলটকে পেড়ে ফেলেছেন যাত্রীরা। হাত-পা বেঁধে রেখে দিয়েছেন। কিন্তু বিমানকর্মীরা এসে দাবি করছেন, জঙ্গি পাইলটকে ছেড়ে দিতে হবে! বিস্ফোরক দাবি করলেন ফ্লাইদুবাই বিমানে থাকা যাত্রীরা। তাঁরা বলেন, ওমানি পাইলটের বাঁধন খুলে ছেড়ে দেওয়ার জন্য় রীতিমতো চাপ দিচ্ছিলেন বিমানে থাকা অন্যান্য কর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত যাত্রীরা আটকে রাখেন ওমানি পাইলটকে।
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি মাঝ আকাশে বিরাট বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গত বুধবার। বিমানটিকে সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল ওমানি পাইলট হামাম আল-হামামি। সেটা আঁচ করতে পেরে আটকাতে যান কো পাইলট স্মিত মচ্ছর, সেসময়েই ককপিটে থাকা কুঠার দিয়ে হামাম তাঁকে কোপ দেয়। কোনও মতে ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত। যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে এসে পাকড়াও করে ফেলেন হামামকে। সে যেন আর কোনও অনিষ্ট করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন যাত্রীরা। কিন্তু সেটা পছন্দ হয়নি ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানকর্মীদের।
আরও পড়ুন:
বিমানে থাকা দুই যাত্রী জিকা মানেস এবং ড্যানিয়েল স্লিখটার জানিয়েছেন, চারজন যাত্রী মিলে হামামকে আটকে বেঁধে ফেলেছিলেন। হেডফোনের তার এবং নানা ধরণের টেপ দিয়ে পিছমোড়া করে রেখেছিলেন অভিযুক্ত পাইলটকে। কোনওমতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছে ততক্ষণে। কিন্তু এমতাবস্থায় ককপিটে এসে হাজির হন বিমানের অন্যান্য কর্মীরা। দাবি করতে থাকেন, হামামকে ছেড়ে দিতে হবে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে যাত্রীদের মনে। যে পাইলট একটা বিরাট দুর্ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছিল, কেন তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করছেন বিমানকর্মীরা? মানের কথায়, “একটা জঙ্গিকে ওরা ছেড়ে দিতে বলছিল। জানি না কেন।”
যদিও বিমানের অন্যান্য কর্মীদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও অভিযোগ আনা হয়নি। ফ্লাইদুবাইও এমন বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে কিছু বলেনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, গোটা বিমানটাই কি হামামের মতো জেহাদি মানসিকতার কর্মীতে ভর্তি ছিল? হামামকে আটকানো না গেলে কি এই কর্মীরাও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে কাজ করতেন?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
