অণুগল্প

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


স্বরূপ

সর্বানী পাল

একটা ছবি, একটা ছবি যে এতটা বিশেষ হয়ে উঠতে পারে তা কিছু কিছু সময় ধারণার‌ও বাইরে থাকে। নিশীথ সেই ছবিটাই দেখছে অনেকক্ষণ ধরে, আর ছবিটা বিশেষ থেকে বিশেষত্ব লাভ করছে ধীরে ধীরে। না, ছবিটা অ্যাসথেটিক নয় একেবারেই বরং খুবই সাধারণ। তবে ব্যতিক্রম কিছু তো আছেই, আর সেই ব্যতিক্রমটা কী সেটাই বুঝতে পারছে না নিশীথ। ছবিতে মেঘাকে দেখে মনে হচ্ছে যেন ছবিটা আঁকা! এতটাই নিখুঁত। স্নান করে আসার পর একটা তোয়ালে জড়িয়ে তোলা ছবিটা। কোমরসমান লম্বা ভেজা চুলের থেকে ফোঁটা ফোঁটা জলে ভিজে যাচ্ছে ঘর, সেটাও স্পষ্ট এই ছবিতে। মেঘা তাকিয়ে আছে উৎফুল্ল চোখে, যেন এখুনি ওর সব বেদনা জলের ধারায় ঝরিয়ে এল। নিশীথ দেখছে মেঘার ভেজা শরীর, ভেজা চোখ, সে চোখের জল এখন নোনা না মিষ্টি তা সে জানে না। শরীরের যেটুকু অংশ খোলা সেখানে এখনও বিন্দু বিন্দু জল জমে রয়েছে, বাদামি রঙের কোমলতা একমনে তখন থেকে দেখেই চলেছে নিশীথ। কিন্তু না, তার দৃষ্টিতে কোনওরকম কামনা বা লোলুপতা নেই, আছে শুধুই মুগ্ধতা আর আশ্চর্য হয়ে যাওয়া। কারণ নিশীথ আসলে মেঘা নিজেই। মেঘার নারী শরীর ও মনের ভেতর মাঝেমাঝে এক পুরুষ মনন উঁকি দেয় আচমকা। যে পুরুষ মন মেঘার নারী শরীরকে উপভোগ করে মুগ্ধ হয়ে, যেখানে কোনওরকম নোংরা দৃষ্টি বা লোভ স্থান পায় না।‌ সে পুরুষ মননের ঠাঁই মাত্র কয়েক মিনিট, অন্য কোনও উদ্দেশ্য সে মননের নেই। প্রথম প্রথম মেঘা কিছুটা ভয় পেত, উলটো-পালটা চিন্তা মাথায় ঘুরত, কিন্তু এখন সে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই সে পুরুষ মনন যখন আসে, তখন মেঘা তাকে ঠাঁই দেয়, সময় দেয়, উপভোগ করে সে দৃষ্টি। কারণ মেঘা জানে, এভাবে আর কারও দৃষ্টি তাকে মুগ্ধ করবে না কোনওদিন।

গর্ভ

শাশ্বত বোস

নদীটার নির্দিষ্ট নাম নেই! ওপারের পদ্মার চরের শেষ মাথা থেকে বেরিয়ে আবার এ দেশে ঢুকেছে। এঁকেবেঁকে মিশেছে ভৈরব নদীতে। স্মৃতির পিঠে স্মৃতি জড়িয়ে, একটা ঝিমধরা বিষণ্ণতার বোধ নিয়ে, ওকে সবাই চেনে ‘পদ্মার শাখানদী’ নামে। ঘোর বর্ষায় ওর বুকে পেটে এখন জল থইথই! রোজ সন্ধেবেলা ছেদু কাকার ঘাটে মাছের বাজার বসে। ওই শাখানদীতে জালে যা যা মাছ ওঠে, তাই বিক্রি হয় এই বাজারে। রুই, কাতলা, পার্সে, ট্যাংরা, ভাঙ্গর, কাজলী আর বর্ষার মরশুমে কখনো-সখনো ইলিশ। চওড়া বুকজুড়ে রুপোর ক্যানভাস! পিঠের দিকটা সবুজ, নাকের কাছে খাবলা করে হলুদ আর সিঁদুর মাখানো। যেন পদ্মার গর্ভে ভেসে আসা সৃষ্টির আদিকালের আদুরে সন্তান! এই শাখানদীর মিষ্টি জলে, পদ্মার স্রোতের বিপরীতে ভেসে আসা মাছেরা, ঘর বাঁধে। আবার এই মাছেরাই পেট চালায় কয়েক ঘর ধীবরের।

‘অজগর আলি মণ্ডল’ এদেরই একজন। এপারে ওর নাম অজগর, ওপারে ‘বাহারুদ্দিন শেখ’! আজ সন্ধ্যার হাটে ইলিশ বেচেছে অজগর। হিম হিম সন্ধ্যায় জালে জড়িয়ে যাওয়া, জ্যান্ত ইলিশ! পানের মতন গড়ন, পেটভর্তি ডিম! অজগরের বৌ গেছে ভিনরাজ্যে কাজের খোঁজে। অন্তত এলাকার মানুষ তাই জানে। কিন্তু অজগর জানে অন্য কথা। ওর বৌ ‘রোকসানা’ আসলে গেছে নিজের কোঁক ভাড়ায় খাটাতে! এক বড়লোক নিঃসন্তান দম্পতির বাচ্চা নিজের গর্ভে নেবে, তারপর সময় হলে সেই নবজাতককে পেট থেকে ফেলে ফিরে যাবে নিজের ঠিকানায়। বিনিময় শুধু অনেক টাকা। হয়তো আর কিছুক্ষণ পরেই বাজারের ধারালো আঁশবটিতে, ইলিশগুলোর পেট চিরে ডিমগুলো সব বেরিয়ে আসবে, সাথে মাটি ভিজিয়ে দেবে তাজা ইলিশের রক্ত!

The put up অণুগল্প appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *