Mehazabien Chowdhury | ২৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ! আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন মেহজাবীন

Mehazabien Chowdhury | ২৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ! আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন মেহজাবীন

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর (Mehazabien Chowdhury) বিরুদ্ধে জারি হয়েছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Arrest Warrant)। অভিযুক্ত মেহজাবীনের ভাইও। আদালতে দায়ের করা হয় মামলা। আইনি পথে হেঁটে রবিবার জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী ও তাঁর ভাই। কিন্তু কেন এত কিছু করতে হচ্ছে তাঁকে? প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী।

জানা গিয়েছে, রবিবার ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা হক তানিয়ার আদালতে মেহজাবিন এবং তাঁর ভাই আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। আদালত তা মঞ্জুর করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন অভিযোগকারীকে নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার করার কথা বলেন। এ প্রতিশ্রুতিতে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৭ লক্ষ টাকা নেন অভিনেত্রী ও তাঁর ভাই। পাওনা টাকা চাইতে গেলে নানা অজুহাত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও জানা যায়।

এরপরই ঘটনার বিবরণ দিয়ে সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) মেহজাবীন বার্তা দেন, ‘একজন অজানা ব্যক্তি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে আমার ও আমার ১৯ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গত নয় মাসে আমি এই মামলার কোনো তথ্য পাইনি, কারণ অভিযোগকারী ব্যক্তি পুলিশকে আমার সঠিক ফোন নম্বর, সঠিক ঠিকানা বা কোনো যাচাইকৃত তথ্য দিতে পারেননি।
তিনি দাবি করেন যে ২০১৬ সাল থেকে তিনি আমার সাথে “ব্যবসা” করছিলেন। কিন্তু—
১. কোনো যোগাযোগের প্রমাণ নেই
তিনি বলেন যে তিনি ২০১৬ সাল থেকে আমাকে ফেসবুকে মেসেজ দিতেন।
কিন্তু তিনি যা দেখাতে পারেননি
• একটি মেসেজ যেটা তিনি আমাকে পাঠিয়েছিলেন মেসেজের, হোয়াটস্যাপ বা আমার নম্বরে,
• কিংবা আমার পক্ষ থেকে একটি উত্তর,
• এমনকি একটি স্ক্রিনশটও না।
২. তার পরিচয় অসম্পূর্ণ
তার সম্পূর্ণ পরিচয়পত্র এখনো জমা দেয়া হয়নি।
তার এনআইডি পর্যন্ত অনুপস্থিত।
৩. অভিযোগকারী ও তার আইনজীবী ফোন বন্ধ করে রেখেছেন
গতকাল খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে
• অভিযোগকারী তার ফোন বন্ধ করে রেখেছেন,
• এমনকি তার আইনজীবীর নম্বরও বন্ধ।
৪. আর্থিক লেনদেনের কোনো প্রমাণ নেই
তিনি দাবি করেন যে তিনি আমাকে ২৭ লক্ষ টাকা দিয়েছেন
কিন্তু তিনি দেখাতে পারেননি—
• কোনো ব্যাংক লেনদেন,
• কোনো চেক,
• বিকাশ লেনদেন,
• কোনো লিখিত চুক্তি,
• কোনো রশিদ,
• কোনো সাক্ষী
কিছুই না।
একটি কাগজপত্রও নেই।
৫. ১১ ফেব্রুয়ারির ঘটনাটি সম্পূর্ণ প্রমাণহীন
তিনি দাবি করেন যে ১১ ফেব্রুয়ারি আমি তাকে চোখ বেঁধে হাতিরঝিল এর একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়েছিলাম, আমার ছোট ভাইসহ আরও ৪–৫ জনকে নিয়ে।
গত নয় মাসে তিনি দেখাতে পারেননি
• রেস্টুরেন্ট বা আশেপাশের রাস্তার এক সেকেন্ডেরও সিসিটিভি ফুটেজ,
• কোনো সাক্ষী,
• কোনো প্রমাণ,
কিছুই না।
হাতিরঝিল ঢাকার সবচেয়ে বেশি সিসিটিভি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা — তবুও তিনি একটি ছবি বা ভিডিও ফুটেজ দেখাতে পারেননি।
৬. গত নয় মাসে আমি কোনো নোটিশ পাইনি
এই নয় মাসে আমি পাইনি—
• কোনো পুলিশ স্টেশনের ফোন কল,
• কোনো কোর্টের নোটিশ বা ডকুমেন্ট।
একটি নোটিশ পেলেও আমি অনেক আগে থেকেই আইনি ব্যবস্থা নিতাম।
৭. আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল
এই মামলার কোনো ভিত্তি না থাকলেও, যখন জানতে পারলাম যে একটি অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে, তখন আমি আইনি প্রক্রিয়া মেনে জামিন নিয়েছি — কারণ আমি আমাদের আইন ও নিয়ম মানি।
প্রমাণ ছাড়া দায়ের করা মামলা কখনো সত্য হয়ে যায় না।
সত্য খুব দ্রুতই আদালতে পরিষ্কার হয়ে যাবে। এখনকার দিনে কাউকে অপমান করা, মানহানি করা বা ভাইরাল হওয়ার জন্য অন্যকে ব্যবহার করা খুবই সহজ হয়ে গেছে। এই ব্যক্তির যেই উদ্দেশ্যই থাকুক, আমার বা আমার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে সে যা-ই করতে চায় —আমি বিশ্বাস করি সবকিছু খুব দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
এর আগে পর্যন্ত আমি সবাইকে অনুরোধ করব—দয়া করে সহানুভূতিশীল হোন, দয়া করে মানবিক হোন, এবং কাউকে না জেনে কোনো মিডিয়া ট্রায়াল শুরু করবেন না।
গত ১৫ বছর ধরে আমি আমার কাজ, আমার পেশা এবং আমার দর্শকদের জন্য যে পরিমাণ পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা দিয়ে এসেছি, সেই পরিশ্রমের পরেও আজ আমাকে এসব ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে—এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক।’

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *