জীবনে জীবন
বেণু সরকার
বৃষ্টি নামিয়েছো
ভিজেছি সকলে বারবার
আবার কখনো তাপিত বৈশাখে
বকুল ফুটিয়েছো বুকের চারদিকে
আমরা ঠকেছি কেউ একথা
বুক ঠুকে বলতে পারিনি
জীবনে জীবন যুক্ত করেছো প্রতিনিয়ত
দরোজা জানালা খুলে গেছে
বসন্তের বাতাসে বাতাসে
শরতের আকাশনীল বিকেল
শুচিতায় ভরিয়ে দিয়েছ প্রাণ
গভীর রাতে
তারাদের সাথে
হাসির ঢেউ লেগেছে মনে
বিষণ্ণতার আবিরে ভরে তুলেছিলে
কোমল নিষাদের ধ্রুপদী উচ্চারণে
শীতের কাঁপন লেগেছিল তখন
মেঘলা রাতে লেখা চিঠি
গীতবিতানের পাতায় লুকোনো ছিল
আমরা টের পেলাম তোমার গানে।।
মোর্স-কোড
মনোনীতা চক্রবর্তী
আগে দুঃখ গোছাতাম
এখন দুঃখ ওড়াই।
ধুমধাড়াক্কা কনসিলার লাগানো জোন।
ম্যাট-ফিনিশড ব্লাশ-অন,
হাইলাইটেড স্মার্ট চিকবোন
ব্লা ব্লা, বাপ রে!
ওসব আগে ম্যান্ডেটরি ছিল।
চিলতে হাসি বিষাক্ত ঠোঁটে।
মোছার আগে কাচের কাছে যাই।
কাচ এক বিপজ্জনক টাইটেল-সং:
আয়না আর সেলফি ক্যামেরার মায়াদূরত্ব জানে ওই অমরত্বের মানে।
মানে-বইয়ে ভীষণ অ্যালার্জি বরাবর ; ফোরপ্লে-হীন জীবনের মতো।
যাপনের মতো নয়।
ছবিটা উল্টে দিই ।
টাইপরাইটারের টরেটক্কা থেকে উঠে আসা —
উল্টে দ্যাখ পাল্টে গেছি — যেন;
বাকিটা অযান্ত্রিক;
ব্যক্তিগত।
ইন্দ্রা, সুইসাইড নোটে এসব কেউ লেখে!
তুই না..!
প্রতিটা দিন
অসীমকুমার দাস
প্রতিটা দিন গ্রহ নক্ষত্রের মতো নিঃশব্দে ভেসে বেড়াই নিজস্ব ভুবনে-
বেডরুম, ড্রইংরুম, ড্রইংরুম, কিচেন, ছাদ কিংবা বাড়ির বারান্দায়
বাড়ির কার্নিস ছাদ সানশেড থেকে এক ঝাঁক পায়রা ভোরের শাদা কুয়াশায়
হেলিকপ্টারের মতো রাস্তায় নামে
আমি তখন নিজস্ব ভ্রমণ কাটছাঁট করে ভোরের নীরব বারান্দায়
প্রবল এক অনিবার্য টানে ভাসতে ভাসতে আসি
প্রতিটা দিন এই সময়টা আমি রাস্তায় পায়রাদের গম খেতে দিই
সূর্য তখন দিগন্ত থেকে মুখ বাড়িয়ে পুবের আকাশ থেকে আমাকে লাল অভিবাদন জানায়
আমি খুব একটা আশ্চর্য হই না, জানি যে রোজ এরকমটাই ঘটে!
আজ আর একা নই আমি, আমার সঙ্গে সারা পৃথিবীটাই বিশ্বময় ভাসছে
সারা ব্রহ্মাণ্ডজুড়েই এভাবেই প্রতি দিন গ্রহ নক্ষত্রেরাও ভাসতে থাকে
আর আমিও ভাসতে ভাসতে এক সময় নিজের কাছে ফিরি
দেখি ভোর কখন দিন হয়ে হলুদ হয়ে গেছে!
তুমি তখন উষ্ণ দু-কাপ চা টি–টেবিলে রেখে
রোজের মতো ভাসতে থাকো এক সমুদ্র ভালোবাসার নীড়ে!
আমাদের দেখা হোক নিয়মিত
নবনীতা সরকার
একাকী চাঁদ আঁকো জলে
অথবা এক সমুদ্র জ্যোছনা
পলাশ রঙে ভরে নাও মুঠো,বুকে থাক মাদলের তাল
দ্যাখো যদি ঘোর লাগে চোখে
বসন্তকে দোষ দিও না যেন
তোমার নিভৃত অসুখপুরীতে দুয়ার দাও
কোনো অযাচিত ছোঁয়ায় মুহুর্মুহ
ভরিয়ে তুলো না বিরহী শরীর
অবসরে পেলে বরং হারিয়ে যাও অকারণ
তাকে ছাড়া বাঁচতে শেখো
যার জিভে লেগে আছে তোমারই নোনা নেশা
যতখানি আকাশ ছুঁয়ে থাকে আলো
ততখানি জীবন ছুঁয়ে থাকো
শর্ত বলে যা কিছু বালাই
তাকে দাও আদরের বেহিসেবী ডাকনাম
আমাদের দূর থেকে দেখা হোক নিয়মিত…
The publish কবিতা appeared first on Uttarbanga Sambad.
