অসংবেদনশীল

অসংবেদনশীল

শিক্ষা
Spread the love


২০২৪-এর লোকসভা ভোটে মনোনয়ন পাওয়াই মুশকিল ছিল বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের। দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়‌ চেয়েছিলেন, দুই প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেন মনোনয়ন দেওয়া না হয়। মমতা অভিষেককে রাজি করিয়ে দুজনকেই শেষপর্যন্ত টিকিট দেন।‌ সুদীপ সচরাচর বিতর্কিত মন্তব্য করেন না।‌ কিন্তু সৌগত ওটাতেই সিদ্ধহস্ত।‌ মাঝেমধ্যে এমন কিছু বলে বসেন, যা নিয়ে বিতর্ক বাধে।

বরাহনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনিতে সৌগত বলেছেন, ‘একটি পার্টি খেলা-মেলাতেই যদি চাপা পড়ে যায়, তাহলে তার পলিটিকাল সেন্সও (রাজনৈতিক বোধ) চাপা পড়ে যায়। খেলা-মেলা করলে লোকে ওই নিয়ে মেতে থাকবে, পলিটিক্সটা করবে না। মনে রাখতে হবে, ৬ মাস পর নির্বাচন। জেতাটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। অন্য কিছু করবেন না।’

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূল সরকারকে হামেশাই ‘মেলা-খেলার সরকার’ বলে বিদ্রুপ করেন। এতদিন শুধু বিরোধীরা মমতার মেলা-খেলা নিয়ে ব্যঙ্গ-কটাক্ষ করে এসেছেন। এবার একজন তৃণমূল সাংসদই বছরভর মেলা-খেলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য বছরভর উৎসব, মেলা-খেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বন্ধন গড়ে তোলা।

মহালয়ারও আগে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন, ১২-১৩ দিনের দুর্গোৎসব, রেড রোডে বিসর্জনের কার্নিভাল, জেলায় জেলায় কার্নিভাল, অ্যালেন পার্ক, পার্ক স্ট্রিটে ক্রিসমাস-বর্ষশেষের উৎসব, পৌষপার্বণে পিঠে-পুলি উৎসব, সব জেলায় শীতের মেলা, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, আদিবাসী মেলা-উৎসব, হুল উৎসব, বর্ষায় ইলিশ উৎসব।

আবার ফুটবল খেলার প্রতিও তৃণমূল নেত্রীর যথেষ্ট অনুরাগ।‌ ১৬ অগাস্ট দিনটিকে ‘খেলা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।‌ ওই দিন সব ক্লাবকে ফুটবল বিলি করা হয়। তৃণমূল জমানায় চালু হয়েছে জেলাভিত্তিক বিবেকানন্দ কাপ, ডায়মন্ড হারবারে এমপি কাপ, জঙ্গলমহল-সুন্দরবনে ফুটবল টুর্নামেন্ট। সৌগতর মন্তব্য সম্পর্কে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ‘সৌগত রায় কোন প্রেক্ষাপটে বলেছেন, জানি না। তবে খেলা-মেলা হল সামাজিক অন্যতম প্রধান কর্মসূচি। যখন রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকে না, তখন জনসংযোগের প্রধান কর্মসূচি হল খেলা-মেলা। মুখ্যমন্ত্রীও সামাজিক কর্মসূচিকে হাতিয়ার করে জনসংযোগ বাড়াতে বলেন। মেলা অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধির একটি প্রধান মাধ্যম, এতে সাধারণ গরিবের উপার্জনও হয়।’

তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য সৌগতর মন্তব্যকে অভিভাবকসুলভ পরামর্শ হিসেবেই দেখছেন। মানতেই হবে, সৌগতর খেলা-মেলা মন্তব্য তৃণমূলেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা ঠাট্টা-তামাশা করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। আগেও আইপ্যাক চুক্তি বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক বাধিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ। তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতে নির্দেশও দেওয়া হয়।

‘খেলা-মেলা’ মন্তব্যের দু’দিনের মাথায় দুর্গাপুরে ডাক্তারি ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের সমর্থনে সৌগত বলেন, রাতে মেয়েদের কলেজের বাইরে যাওয়া অনুচিত।‌ খেলা-মেলা নিয়ে মন্তব্যে মমতা যদি তাঁর ওপর চটে থাকেন, পরেরটাতে মুখ্যমন্ত্রীকে তুষ্ট করারই চেষ্টা করেছেন সৌগত। আবার বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী দুর্গাপুরের ঘটনার পর মন্তব্য করেন, ‘যুগ যুগ ধরে এসব চলছে।’

অর্থাৎ শুধু সৌগত নন, তৃণমূলের কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, চিরঞ্জিত চক্রবর্তীরা মাঝেমধ্যে দলবিরোধী বা নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে থাকেন। সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও। বিশেষত রাজ্যে বিভিন্ন নারী নির্যাতনের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মাঝে মাঝে অসংবেদনশীলতা প্রকাশ পায় বলে অভিযোগ।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দৌলতে ও বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ভোটযুদ্ধে বাংলায় তৃণমূল যদি আবার জয়ী হয়ও, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলের একাংশের এধরনের নারীবিদ্বেষী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক থাকবেই। এর সঙ্গে মানবিকতা ও নারীর প্রতি মর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত।

The put up অসংবেদনশীল appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *