উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গঙ্গা ভাঙ্গন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (CM Mamata Banerjee) এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে একযোগে বিঁধলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। হুমায়ুন বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের বন্যায় দুর্গতদের জন্য ছুট লাগালেন মমতা- শুভেন্দু। অথচ লালগোলার গঙ্গা ভাঙ্গন নিয়ে আপনাদের কোনও হেলদোলই নেই! আমরা মুর্শিদাবাদের মানুষরা যদি সোচ্চার হই, তখন দেখবেন সবাই ছুটবেন।’
প্রতি বছর মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) গঙ্গা ভাঙ্গনে ভিটে-মাটি ছেড়ে অন্যত্র যেতে হয় ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষদের। সেই ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষদের কথা ভেবে মমতা এবং শুভেন্দুকে (Shuvendu Adhikari) নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে হুমায়ুন বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে, বন্যা হচ্ছে, মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তখন সেখানে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে বসে আছেন। আবার বিরোধী দলনেতাও ত্রাণ ও অনেক কিছু নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। অথচ তিন মাস ধরে লালগোলার তারানগর অবহেলিত। এখানে কি কারও দৃষ্টি আছে? তাহলে হুকের নাম বাবাজি! মুর্শিদাবাদের মানুষ যদি সোচ্চার হই, তখন দেখবেন সবাই ছুটবেন। আমরা তো নির্বোধ। নিজেরা কামড়া-কামড়ি করি। এর বিরুদ্ধে ওর বিরুদ্ধে এ ল্যাং মারতেই ব্যস্ত। তাই এই পরিস্থিতি করে পার পাচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্য। জনগণ সময় আসলে এর জবাব দেব।’
হুমায়ুনের এই মন্তব্য শুনে পালটা মুখ খুলেছেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার (MP Sukanta Majumdar), ‘বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে ওঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। আর উনি তৃণমূলে আছেন কেন? রাজনীতি ছেড়ে দিলেই তো পারেন।’
উল্লেখ্য, এর আগে একাধিকবার দল বিরোধী কথা শোনা গিয়েছিল হুমায়ুন কবীরের মুখে। তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁকে ডেকে বহুবার সতর্ক করেছিলেন। এমনকি শোকজও করা হয়েছিল তাঁকে। পরবর্তীতে দলের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভরতপুরের বিধায়ক বলেছিলেন, দলবিরোধী কথা বলবেন না। যদিও বিগত কয়েকমাস ধরে তিনি একপ্রকার মুখে কুলুপ এটেছিলেন। কিন্তু ফের তাঁর মুখে এ ধরনের মন্তব্য শুনে দল কি ব্যবস্থা নেবে তাই এখন দেখার।
