উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভারতে ফুটবল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) ম্যাচ সম্প্রচার হওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘকালীন অনিশ্চয়তা অবশেষে কাটতে চলেছে। ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত খুশির খবর যে, আগামী সোমবারের মধ্যেই এই বিষয়ে সমস্ত ছবি পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA)-র সঙ্গে একটি প্রথম সারির ভারতীয় চ্যানেল কর্তৃপক্ষের দর কষাকষি এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জি (Zee) গোষ্ঠীর চ্যানেলেই এবার ফুটবল বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন ভারতের কোটি কোটি দর্শক।
প্রাথমিকভাবে ভারতে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব (Broadcast Rights) কেনার দৌড়ে এগিয়ে ছিল সোনি পিকচার্স নেটওয়ার্কস এবং রিলায়্যান্স ডিজনি। কিন্তু ফিফার আকাশছোঁয়া টাকার দাবি মেনে নিতে রাজি হয়নি এই দুই জায়ান্ট সংস্থা। আবার তারা যে পরিমাণ অর্থের প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতে সন্তুষ্ট ছিল না ফিফাও। ফলে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে তীব্র হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ঠিক এই চরম মুহূর্তেই আসরে নামে জি গোষ্ঠী। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফিফার সঙ্গে জি গোষ্ঠীর এই মেগা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে।
বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব পেতে জি গোষ্ঠীকে ফিফাকে দিতে হতে পারে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৮৫ কোটি থেকে ৩৩২ কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের টাকার বিষয়ে দুই পক্ষ সহমত হলেই সরকারিভাবে চুক্তির ঘোষণা করা হবে। জানা গিয়েছে, জি গোষ্ঠী এই স্বত্ব পাওয়ার ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত। সেই কারণে ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ের লোয়ার প্যারেলে তাদের স্টুডিয়োয় প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং টেকনিক্যাল সেট-আপ তৈরির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গিয়েছে।
বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে জি গোষ্ঠী সম্পূর্ণ নতুন ৪টি চ্যানেল বাজারে নিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় দর্শকদের আবেগের কথা মাথায় রেখে হিন্দি, বাংলা সহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক ভাষায় ধারাভাষ্যের (Commentary) ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এই সম্প্রচারকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত ফুটবল বিশেষজ্ঞের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তাও সেরে রেখেছে সংস্থাটি।
আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় (আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডা) শুরু হতে চলেছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। এবারই প্রথম মহাধামকায় মোট ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে। ফলে ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪-এ। জি গোষ্ঠী এবং ফিফার এই ইতিবাচক আলোচনা সফল হলে, ভারতের ফুটবলপ্রেমীরা ঘরের টিভির পর্দায় বসেই উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত।
