Sabarimala Context | “ডাস্টবিনে ফেলার মতো নথি!” মন্দিরে প্রবেশাধিকার মামলায় মামলাকারীর ‘অধিকার’ নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

Sabarimala Context | “ডাস্টবিনে ফেলার মতো নথি!” মন্দিরে প্রবেশাধিকার মামলায় মামলাকারীর ‘অধিকার’ নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের বিচারব্যবস্থায় জনস্বার্থ মামলার (PIL) প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর আইনি সীমাবদ্ধতা নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উত্তপ্ত বিতর্কের সাক্ষী থাকল সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Courtroom of India) ৯ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ। সম্প্রতি একটি মন্দিরে প্রবেশের অধিকার সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন ‘ইন্ডিয়ান ইয়ং লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে কড়া মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Chief Justice Surya Kant) ও বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্ন (Justice BV Nagarathna) সহ অন্যান্য বিচারকগণ (Sabarimala Context)। শুনানির শুরুতেই আদালতের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে পড়েন আইনজীবী আর কে গুপ্তা। বিচারপতিরা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, একজন মুসলিম ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন একটি আইনজীবীদের সংগঠন কীভাবে একটি নির্দিষ্ট মন্দিরের ধর্মীয় রীতি ও সেখানে প্রবেশের অধিকার নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করতে পারে? এক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ‘লোকাস স্ট্যান্ডি’ বা আইনি অধিকার ঠিক কোথায়, তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক বাগবিতণ্ডা।

তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র এই আবেদনটি গ্রহণ করেছিলেন এবং আবেদনকারীদের নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছিলেন— আইনজীবীর এই যুক্তিতে বর্তমান বেঞ্চ আরও কঠোর অবস্থান নেয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায় যে, তৎকালীন প্রধান বিচারপতির উচিত ছিল এই আবেদনটি গোড়াতেই বাতিল করে দেওয়া। আবেদনকারী পক্ষ যখন কিছু খবরের কাগজের রিপোর্টের ভিত্তিতে মন্দিরের পুরোহিতের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অভিযোগ তোলেন, তখন প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে মন্তব্য করেন যে, এই ধরনের ভিত্তিহীন নথি সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া উচিত। ব্যক্তিগত অসদাচরণের বিচার আলাদা হতে পারে, কিন্তু তার ওপর ভিত্তি করে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা করা যায় না।

বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্ন এদিন জনস্বার্থ মামলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক নতুন ও ব্যঙ্গাত্মক সংজ্ঞা প্রদান করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, বর্তমানে পিআইএল (PIL) তার আদি সত্তা হারিয়ে ‘পাবলিসিটি ইন্টারেস্ট’, ‘পার্সোনাল ইন্টারেস্ট’, ‘পয়সা ইন্টারেস্ট’ এবং ‘পলিটিক্যাল ইন্টারেস্ট’ লিটিগেশনে রূপান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ জনস্বার্থের নাম করে এখন আসলে ব্যক্তিগত প্রচার বা রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হচ্ছে। আইনজীবী আর কে গুপ্তা সতীদাহ প্রথা রদ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে পালটা যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করলেও, আদালত ধর্মীয় রীতিনীতির ক্ষেত্রে বাইরের কোনো সংগঠনের হস্তক্ষেপের এক্তিয়ার নিয়ে অনড় থাকে। ৯ বিচারপতির এই বেঞ্চ এখন খতিয়ে দেখছে যে, ধর্মীয় রীতিনীতির ক্ষেত্রে জনস্বার্থ মামলার এক্তিয়ার ঠিক কতটুকু। প্রধান বিচারপতির এই কঠোর মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনে প্রচার বা ব্যক্তিগত স্বার্থে করা জনস্বার্থ মামলার পথ আরও কঠিন হতে চলেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *