অবিশ্বাসের বাতাবরণ

অবিশ্বাসের বাতাবরণ

শিক্ষা
Spread the love


গত লোকসভা নির্বাচনে ‘ইন্ডিয়া’ জোট বিজেপি ও এনডিএ-র বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। কিন্তু গত দু’বছরে সেই জোটের অন্দরে ফাটল বেআব্রু হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে ডিএমকে ও আপ শামিল হয়নি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির বিজেপি-আরএসএসকে রুখতে প্রতিরোধের রাস্তায় নামার ডাকের সঙ্গে একমত নয় ডিএমকে।

দলের মুখপত্র ‘মুরাসোলি’-তে রাহুলকে রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্ব বলা হয়েছে। তাঁর ‘অসততা’কে যেভাবে দায়ী করা হয়েছে, তা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ফাটলকে চওড়া করেছে। প্রায় একই সুর শোনা গিয়েছে কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়নের গলায়। তাঁরও অভিযোগ, কেরলে সিপিএমের অন্ধ বিরোধিতা করতে গিয়ে রাহুল প্রকারান্তরে বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছেন।

তাঁর বাড়িতে ইডি’র হানার বিষয়টির উল্লেখ করেও রাহুলকে নিশানা করেছেন পিনারাই। জোটের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়িতে স্পষ্ট, কংগ্রেসকে নিয়ে শরিক দলগুলির সংশয় ও আপত্তি দূর তো হয়ইনি, বরং আরও ঘনীভূত হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্ব অবশ্য শরিকদের আপত্তিকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে নিজের শর্তে জোটের অভিমুখ নির্ধারণ করতে চাইছে। যা আঞ্চলিক দলগুলির ক্ষোভের মূল কারণ।

বিহারে বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর কংগ্রেসের দিকে জোটের শর্ত লঙ্ঘনের আঙুল তুলেছিল আরজেডি। তবে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর সোনিয়া ও রাহুল গান্ধির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুসম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছেন। তা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার জন্য। কারণ তৃণমূল এখন কার্যত ত্রিধাবিভক্ত এবং এই রাজনৈতিক সংকটে শ্যাম ও কুল বজায় রাখতে হিমসিম খাচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

সপা সভাপতি অখিলেশ যাদব উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে মসৃণভাবে চলার বার্তা দিলেও মানসিকভাবে তিনি কতটা প্রস্তুত, সেটা বড় প্রশ্ন। বিপরীতে অন্ধ্রপ্রদেশ বাদে দক্ষিণ ভারতের বাকি রাজ্যগুলিতে কংগ্রেস নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে (তামিলনাডুতে টিভিকে’র সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে) বিজেপি বিরোধী লড়াইকে তীব্র করার বার্তা দিয়েছে।

রাহুলের দাবি, বিজেপি-আরএসএসের রণকৌশল ও সর্বগ্রাসী রাজনীতি কংগ্রেস যতটা অনুধাবন করতে পেরেছে, আঞ্চলিক দলগুলি তা পারেনি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ের বিষয়ে তাঁর বিজেপি বিরোধী অবস্থানের সঙ্গে শরিকরা কতটা একাত্ম, সেটা নিয়ে সংশয় আছে।

জোট রাজনীতির অন্যতম প্রধান শর্ত জোটধর্ম পালন করে চলা। কিন্তু ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অনেক শরিক ‘জোটে থাকব অথচ জোটধর্ম মানব না’ গোছের মানসিকতা নিচ্ছে। তাতে জোট মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবর ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থী দেওয়ার কথা বলেন। অথচ অতীতে গোয়া, মেঘালয়ের মতো কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে হাত শিবিরের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়ে সেকথার উলটো পথে হেঁটেছেন।

একই কথা প্রযোজ্য আম আদমি পার্টির ক্ষেত্রে। দিল্লি ও পঞ্জাবে কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধের জেরে গোয়া এবং গুজরাটে প্রার্থী দিয়ে বিরোধী ভোটব্যাংকে থাবা বসিয়েছিল আপ। এই ধরনের আঞ্চলিক স্বার্থ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস জোটের ভিতকে আলগা করে দিচ্ছে। সারা দেশে কংগ্রেসের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থায় আপাতত একক ক্ষমতায় দিল্লির মসনদ দখল অলীক কল্পনা মাত্র।

দক্ষিণ ভারতে দলটির কিছুটা সাংগঠনিক শক্তি থাকলেও পূর্ব বা উত্তর ভারতে অত্যন্ত দুর্বল। রাহুল নিজেই স্বীকার করেছেন, মোদি জমানায় ভোটে জেতার যাবতীয় ব্যাকরণ ওলটপালট করে দিয়েছে বিজেপি এবং আরএসএস। তিনি সেটা মনে করলেও বাকি শরিকদলগুলির ধারণা অনেক ক্ষেত্রে অন্যরকম। ‘ইন্ডিয়া’ জোট যদি পারস্পরিক দোষারোপ, কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে যৌথ আন্দোলনের পথে না নামে, তাহলে ২০২৯ সালে রাহুলের জয়ের লক্ষ্যের বাস্তবায়ন আদৌ সম্ভব নয়।

শরিকদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও অশান্তি চলতে থাকলে কেন্দ্রের ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন ২০২৯ সালেও অধরা থেকে যাবে বিরোধী শিবিরের কাছে।

The put up অবিশ্বাসের বাতাবরণ appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *