চুপ
শর্মিষ্ঠা শেলী চক্রবর্তী
চুপ হয়ে থাকুন।
একদম চুপ।
চোখ বন্ধ করুন।
কিংবা গান্ধারী চোখে
বাঁধুন টুকরো কাপড়।
যেন ইচ্ছে করলেও
আপনার চোখ কিছু না দেখে-
আপনার বোধ কিছু না জানে-
আপনার বিবেক কিছু না চেনে।
আপনার চুপ চোখ থেকে
গড়িয়ে পড়ুক রক্ত নদী।
সে নদীর ঘাটে
বাঁধা আছে হিংসের নৌকো।
সে নদীর ঘাটে স্তূপাকৃতি
লোভের হাঁ-মুখ, লালসার চোখ।
পচে যাওয়া চেতনার গন্ধে
ভারী হোক আপনার নিঃশ্বাস,
ঠোঁটের কোণে লেগে থাকুক
এক চিলতে মৌন বিষ।
পায়ের নীচে বিপন্ন মানচিত্র,
অথচ আপনি তখন পাথর প্রতিমা—
বোধহীন, শব্দহীন, এক অন্ধ স্থবির।
এক অদ্ভুত নিস্পৃহায়
ঢাকা পড়েছে আপনার কপাল।
চুপ থাকুন।
আরও কিছুক্ষণ চুপ,
যতক্ষণ না মাটি গ্রাস করে
শেষ মানুষের হাহাকার।
যখনই খুলবেন ওই চোখবন্ধনী—
দেখবেন, আয়নায় দাঁড়িয়ে
এক বীভৎস শ্মশান,
যেখানে আপনার বিবেকই প্রথম মৃতদেহ।
টাইম লাইনে লেখা থাক আপনার
মৃত বিবেকের ইতিহাস, ভূগোল
এবং বিধ্বস্ত অঙ্কের ফলাফল।
আলোর বৃত্ত
ঋতুপর্ণা ধর
কে তুমি?
আলোর মতো এক অবয়ব—
কাছে গিয়ে দেখি, এক মুঠো ধুলো।
আমার দৃষ্টি আবছা হয়ে আসে,
আলোয় পুড়ে যায় চোখের ভেতরকার দৃশ্য।
তোমার দ্বিধাদের পিছুডাক,
আর লেলিহান শব্দব্রহ্ম
অদৃশ্য আগুনের মতো
আমায় ছুঁয়ে যেতে চায়।
যতবার কাছে যাই,
দূরত্ব মাপে আলোকবর্ষ।
তবু নিরন্তর গোল্লাছুট—
আলোর বৃত্তে খুঁজে ফিরি
মনের আদল।
তুমি কোথাও নেই, আমার অস্তিত্ব ছাড়া।
সত্যের হার
জয় বর্মন
সত্যি বললেই দেখি মুখগুলো নীরব হয়,
হাসির বদলে নেমে আসে অদ্ভুত এক ভয়।
মিথ্যার রঙিন কথায় ভরে ওঠে সভা,
তালি পড়ে, বাহবা মেলে—সবাই থাকে খুশি যেন তবে।
আমি দাঁড়িয়ে থাকি একা, প্রশ্ন নিয়ে মনে,
সত্যি কি তবে হেরে যায় মিথ্যার এই ক্ষণে?
তবু ভেতর থেকে একটা কণ্ঠ বলে ধীরে—
‘মিথ্যা জেতে মুহূর্তে, সত্যি জেতে নীরবে।’
বাহবা হয়তো পাব না আজ এই পথ ধরে,
তবু নিজের চোখে হারব না কোনও ভোরে।
কারণ আয়নার সামনে দাঁড়ালে প্রতিদিন,
সত্যের মানুষটাই থাকে—সবার শেষে জিতেই।
ময়নাবাড়ির হাট
সুবীর সরকার
ময়নাবাড়ির হাট, দূরে ভুটান পাহাড়, সাতরঙা
পাহাড়ের মিথ
হাতিরা মিছিল নিয়ে ঢুকে পড়ে ফরেস্ট কর্তিকায়
হাতিপোতা কতদূর!
ফাঁসখাওয়া দুলে ওঠে লিলুয়া বাতাসে।
আমি আর বাবুদা সেলফি তুলি
আর হাটের শিথানে নৈশ শিস
রুমাল নাড়াতে নাড়াতে আমাদের দিকে এগুতে থাকে
কবি শৌভিক বণিক
The put up কবিতা appeared first on Uttarbanga Sambad.
