উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিধানসভা অধিবেশন শুরুর প্রথম দিনই রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলল। সমস্ত রাজনৈতিক তিক্ততা সরিয়ে রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Shuvendu Adhikari) ঘরে গিয়ে মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের (TMC MLA’s) পাঁচ মমতাপন্থী শীর্ষ বিধায়ক। এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব এবং রহিম বক্সি। মূলত দল, রাজ্য ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে কয়েকটি জরুরি ইস্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই আলোচনা চালাচ্ছেন তাঁরা।
নবান্ন ও বিধানসভা সূত্রের খবর, এই বৈঠক কিন্তু রাতারাতি হয়নি, এর পেছনে রয়েছে গত কয়েকদিনের পর্দার আড়ালের ধারাবাহিক যোগাযোগ। সম্প্রতি বেলেঘাটার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দারের গ্রেপ্তারির পর কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) মুখ্যমন্ত্রীকে বার্তা পাঠিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি থামানোর অনুরোধ করেছিলেন। তখন তাঁকে জানানো হয়, ১৮ জুন বিধানসভার প্রথম দিন রাজ্যপালের ভাষণের পর মুখোমুখি বসে কথা হতে পারে।
এরই মধ্যে বুধবার রাতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পুরনো পিএসও (PSO) তুলে নেওয়া ঘিরে চরম নাটক তৈরি হয়। কুণাল ঘোষ নিজে থেকে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীকে খবর পাঠিয়ে ব্যক্তিগত সৌজন্যের খাতিরে মমতাদির পুরনো নিরাপত্তা টিমকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
বৈঠকে তৃণমূলের এই প্রতিনিধি দলটি মূলত তিনটি অত্যন্ত জরুরি ও সংবেদনশীল দাবি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করেছেন: ১. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো ও বিশ্বস্ত নিরাপত্তা টিমকে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া। ২. রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি হেনস্থা ও মামলা বন্ধ করা। ৩. উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোনওভাবেই যাতে বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ না করা হয় এবং হকারদের বিকল্প ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত পাঁচ বিধায়কই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁরা সম্পূর্ণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত থেকেই কেবল রাজ্য ও মানুষের স্বার্থে এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এখন দেখার, এই হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর বাংলার উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়ার বরফ কতটা গলে।

