উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ব্রিটিশ রাজমুকুটের শোভা বাড়ানো বিতর্কিত ‘কোহিনুর’ হিরে (Kohinoor Diamond) কি তবে ভারতে ফিরবে? নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির (Zohran Mamdani) একটি মন্তব্য এই পুরনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে মামদানি স্পষ্ট জানান, সুযোগ পেলে তিনি ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসকে (King Charles III) কোহিনুর হিরে ভারতকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করবেন।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র মামদানির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ভারত সরকার দীর্ঘ সময় ধরে এই ঐতিহাসিক রত্নটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। মামদানি বলেন, ‘অফিসিয়াল কর্মসূচির বাইরে যদি রাজার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ পাই, তবে আমি নিশ্চিতভাবেই তাঁকে কোহিনুর ফেরানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করব।’ উল্লেখ্য, ওই দিনই ৯/১১-র স্মরণ অনুষ্ঠানে রাজার সঙ্গে মামদানির সংক্ষিপ্ত আলাপ হয়। তবে তাঁদের মধ্যে হিরে নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বাকিংহাম প্যালেস বা মেয়রের দপ্তর—কেউই মুখ খোলেনি।
উল্লেখ্য, ১৮৪৯ সালে লাহোর চুক্তির (Treaty of Lahore) মাধ্যমে শিখ সাম্রাজ্যের শিশু রাজা দলীপ সিংকে দিয়ে জোরপূর্বক এই ১০৫.৬ ক্যারেটের হিরেটি লিখিয়ে নিয়েছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ভারত বরাবরই দাবি করে আসছে যে, ঔপনিবেশিক শোষণের প্রতীক এই হিরেটি আদতে ভারতের জাতীয় সম্পদ। মুঘল, পারস্য ও আফগান শাসকদের হাত ঘুরে এটি ব্রিটিশদের কাছে পৌঁছালেও এর শিকড় ভারতের মাটিতেই প্রোথিত।
অন্যদিকে, ব্রিটেন এই দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের যুক্তি, উনিশ শতকের ওই চুক্তির মাধ্যমেই হিরেটির আইনি মালিকানা অর্জন করেছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। বর্তমানে হিরেটি লন্ডনের টাওয়ার অফ লন্ডনে সংরক্ষিত রয়েছে। এরই মাঝে জোহরান মামদানির এই সাহসী অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের দীর্ঘদিনের দাবিকে আবারও শক্তিশালী করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
