রায়গঞ্জ: পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির জেরে ফুঁসছে কুলিক নদী (Kulik River)। হুহু করে বাড়ছে জলস্তর। আর তার জেরেই বন্যার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন রায়গঞ্জ (Raiganj) শহর সংলগ্ন নদীতীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ। ইতিমধ্যেই নদীর উপচে পড়া জল বেশকিছু এলাকার বাড়ির উঠোন পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। বিঘ্নিত হচ্ছে যাতায়াত। আর একটু জল বাড়লেই তা ঘরে ঢুকে পড়বে, এই আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের। নদীসংলগ্ন নীচু এলাকার বহু পোলট্রি ফার্ম ও চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। সব মিলিয়ে এক লহমায় বদলে গিয়েছে রায়গঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার চেনা ছবিটা।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে রায়গঞ্জ পুরসভার কর্মীদেরও তৎপর হতে দেখা গিয়েছে। রায়গঞ্জের মহকুমা শাসক তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পাহাড়ে বৃষ্টির জন্য কুলিকের জলস্তর বেড়েছে এবং শহর সংলগ্ন কিছু নীচু এলাকায় জল ঢুকেছে। আমরা প্রশাসনের তরফে সবটাই কড়া নজরে রেখেছি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সবরকম আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কতা রয়েছে।’
কুলিকের এই আকস্মিক রূপ পরিবর্তনের জেরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেবীনগরের কান্তনগর, দ্বীপনগর, আবদুলঘাটা, ভাতগড়া ও সুভাষগঞ্জ এলাকায়। বুধবার দুপুরে কান্তনগর এলাকায় গিয়ে দেখা গেল এক ভয়াল পরিস্থিতি। নদীর জল আশপাশের নীচু জমি ও বসতি এলাকা গ্রাস করতে শুরু করেছে। চারিদিকে থইথই জল দেখে বাসিন্দাদের উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। অনেকেই ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে বা বাঁধের ওপর সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন। কান্তনগর এলাকার বাসিন্দা ছোটন মাহাতো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘কুলিক নদীর জল ইতিমধ্যেই আমাদের বাড়ির উঠোনে চলে এসেছে। যেভাবে জল বাড়ছে, তাতে আর সামান্য বাড়লেই তা ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়বে। আমরা ঘরের জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করেছি।’
একই ছবি দ্বীপনগর ও আবদুলঘাটাতেও। সেখানে বেশকিছু বাড়ি ইতিমধ্যেই আংশিক জলমগ্ন। যাতায়াতের রাস্তাঘাট জলের তলায় চলে যাওয়ায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। আবদুলঘাটা এলাকার প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অজয় সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেন, ‘নীচু এলাকাগুলোতে হুহু করে জল ঢুকছে। নদীর জল যে হারে বাড়ছে, তাতে আগামী কয়েক ঘণ্টায় জল আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আমরা চূড়ান্ত আশঙ্কায় রয়েছি।’
অন্যদিকে, সুভাষগঞ্জের পালপাড়ার বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক বিজয় পালের কথায় উঠে এল অন্য এক আশঙ্কার কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অংশে কোনও মজবুত নদীবাঁধ না থাকায় ক্যানাল দিয়ে অনায়াসেই নদীর জল ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। এরপর পাহাড়ের জল নামলে বড় বিপদ নেমে আসবে আমাদের কপালে।’
এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার এই সম্ভাব্য রূপ দেখে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রায়গঞ্জ পুরসভার (Raiganj Municipality) কর্মীদের বুধবার সকাল থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাঠে নামতে দেখা গিয়েছে। কান্তনগর সহ বিভিন্ন এলাকায় নদীবাঁধের দুর্বল ও বিপজ্জনক অংশগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত মাটি ও বালির বস্তা ফেলে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। শক্তিনগরের নদীবাঁধ সংলগ্ন এলাকার মানুষজন এখনও ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধে আশ্রয় না নিলেও, তাঁদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। লাগাতার বৃষ্টি চলতে থাকলে তাঁদের ঘর ছাড়তেই হবে বলে মনে করছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ যোশি বলেন, ‘নদীর জল যেভাবে বাড়ছে তাতে আমরা আতঙ্কিত। পাহাড়ে বৃষ্টি না কমলে কুলিকের জলস্তর আরও বাড়বে। আমরা চরম উদ্বেগের মধ্যে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।’
The put up Raiganj | ফুঁসছে কুলিক! প্লাবনের আশঙ্কায় রায়গঞ্জ appeared first on Uttarbanga Sambad.
