World Cup Soccer Closing | আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ! বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিদের গুঁড়িয়ে দিয়ে জয়ী স্প্যানিশ আর্মাডা

World Cup Soccer Closing | আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ! বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিদের গুঁড়িয়ে দিয়ে জয়ী স্প্যানিশ আর্মাডা

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজের হাতে বর্ণাঢ্য উদ্বোধন, গ্যালারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতি এবং মারিয়ো কেম্পেল ও আন্দ্রে ইনিয়েস্তার হাত ধরে ট্রফি উন্মোচন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সব মিলিয়ে মঞ্চ প্রস্তুত ছিল এক মহাকাব্যিক ফাইনালের জন্য। হলও কার্যত তাই। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জিতল স্পেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের (World Cup Soccer Closing) নির্ধারিত সময়ে স্পেন দাপটের সঙ্গে খেললেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি। আর্জেন্টিনাও কার্যত ৯০ মিনিট ধরে নিজেদের রক্ষা করে গিয়েছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য শেষ হলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে গোলটি করেছেন তোরেস। শেষ পর্যন্ত এই ১ গোলেই জয়ী হয় স্পেন।

এদিন নির্ধারিত সময়ের থেকে ৫ মিনিট দেরিতে খেলা শুরু হলেও, মাঠের লড়াইয়ে প্রথম মিনিট থেকেই চড়ছিল উত্তেজনার পারদ। কোনওরকমে প্রথমার্ধে নিজেদের গোল বাঁচিয়ে মাঠ ছাড়েন লিওনেল মেসিরা। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে গিয়ে দিশেহারা দেখিয়েছে নীল-সাদা ব্রিগেডকে।

স্পেনকে আটকাতে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রথমার্ধে তিনটি বড় বদল করেছিলেন। সেমিফাইনালের দল থেকে জিউলিয়ানো সিমিয়োনে, নাহুয়েল মোলিনা ও লিয়োনার্দো পারেদেসকে বসিয়ে নামানো হয়েছিল নিকো গঞ্জালেজ, গঞ্জালো মন্টিয়েল ও রদ্রিগো ডি পলকে। লক্ষ্য ছিল প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ করা এবং মাঝমাঠে স্পেনের রদ্রিকে বোতলবন্দি করে মেসিকে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দেওয়া। অন্যদিকে, স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে তাঁর উইনিং কম্বিনেশন অপরিবর্তিত রেখে দল নামান।

কিন্তু মাঠের লড়াই শুরু হতেই স্কালোনির সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় স্পেন। শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেয় তারা। গতির সঙ্গে নিখুঁত পাসিং ফুটবলের মিশ্রণে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের নাচিয়ে ছাড়েন লামিনে ইয়ামাল ও মার্ক কুকুরেয়ারা। ম্যাচের প্রথম ৫ মিনিটেই আর্জেন্টিনার গোলে জোড়া শট মারেন ইয়ামাল। স্পেনের এই আগ্রাসী ফুটবলের সামনে প্রথমার্ধে স্রেফ বলের পিছনে তাড়া করতে আর ফাউল করতেই ব্যস্ত থাকলেন ম্যাক অ্যালিস্টারেরা। বেশ কয়েকবার নিশ্চিত গোলের হাত থেকে দলকে বাঁচান আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

স্পেনের মাঝমাঠ ও রক্ষণের দাপটে প্রথমার্ধে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। স্প্যানিশ ডিফেন্সের কড়া মার্কিংয়ের কারণে অধিনায়ক লিওনেল মেসি প্রথমার্ধে বলই পাননি। প্রথম ২০ মিনিটে মাত্র দু’বার বলে পা ছোঁয়াতে পেরেছেন তিনি, যার মধ্যে একবার ছিল কিক অফের সময়। মাঝমাঠে একবার বল পেলেও কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে ফাউল করেন আলেক্স বায়েনা। মেসি বল না পাওয়ায় আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধের প্রথম ৩৫ মিনিটে স্পেনের গোল লক্ষ্য করে একটি শটও মারতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকে তেমন কোনও পরীক্ষাই দিতে হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নেমেছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মাঠে আসার ষষ্ঠ মিনিটে তিনি ফাউল করে বসেন ওইয়েরজাবালকে। মাঝমাঠের কাছে অফ দ্য বলে ফাউল করেছিলেন তিনি, এরপর সেখানে আরও এক ধাক্কা দেন পারেদেস। ফলে রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান। অন্যদিকে, কিছুক্ষণ পরেই মাঝমাঠ থেকে আসা বল নিয়ে দারুণভাবে আক্রমণে ঢুকে গিয়েছিলেন দানি অলমো। সেখান থেকে তিনি কাটব্যাক করেছিলেন কুকুরেয়ার জন্য। তবে তার আগেই দারুণভাবে বলটা ক্লিয়ার করেছেন গনজালো মন্তিয়েল। বিপদ থেকে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও মাঠজুড়ে শুধু স্পেনের দাপট। বেশ কয়েকবার নিশ্চিত গোল বাঁচান আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক। সংযুক্তি সময়ের ১০৬ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোল করেন ফেরান তোরেস। নিকো উইলিয়ামসের অসাধারণ ক্রস থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন তিনি। সেই গোলেই বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে গেল আর্জেন্টিনা।টানা দু’বার বিশ্বকাপ হাতে তোলা হল না লিয়োনেল মেসির। এদিন গোটা মাঠে মেসিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁকে বল পাস করতেই পারেননি সতীর্থেরা। শেষ দিকে তেড়েফুঁড়ে বেশ কয়েক বার আক্রমণ করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ১০ জনের দলের পক্ষে সম্ভব ছিল না ওই জায়গা থেকে ম্যাচে ফেরা। বরং একাধিক সুযোগ নষ্ট না করলে স্পেনের জয়ের ব্যবধান আরও বেশি হতে পারত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *