নয়ারহাট: একই চত্বরে দুটি স্কুল। একটি প্রাথমিক, অপরটি জুনিয়ার হাইস্কুল। ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবির বসানোয় দুটি স্কুলেই মঙ্গলবার পঠনপাঠন বন্ধ থাকল। তবে শিক্ষকরা এসেছিলেন। হাতেগোনা কয়েকজন পড়ুয়া স্কুলে এলেও লোকজনের ভিড় দেখে তারা ফিরে যায়। যদিও শিক্ষকদের দাবি, এদিন পড়ুয়ারা স্কুলে আসেনি। মঙ্গলবার এমন ঘটনার সাক্ষী থাকল মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের কেদারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বামুনিয়া এপি স্কুল ও বামুনিয়া নাককাটি জুনিয়ার হাইস্কুল। এদিকে, সরকারি শিবিরের জন্য সরকারি স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পঠনপাঠন শিকেয় তুলে স্কুলে শিবির বসানোয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাথাভাঙ্গা-১’এর বিডিও শুভজিৎ মণ্ডলের বক্তব্য, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
এদিন বামুনিয়ার ওই দুটি বিদ্যালয়ে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবিরের পাশাপাশি ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরও বসেছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার লক্ষ্যে শিবিরে ভিড়ও ভালো হয়েছে। পার্শ্ববর্তী তিনটি বুথের সাধারণ মানুষ শিবিরে অংশ নেন। সকাল থেকেই স্কুলের মাঠে বাইকের ভিড় জমে যায়। সরকারি কর্মী, নেতা-জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে গমগম করছিল স্কুলের ক্লাসরুম, বারান্দা সহ মাঠের একাংশ। সব মিলিয়ে, স্কুল প্রাঙ্গণ কার্যত মেলার রূপ নিয়েছিল। এদিন দুপুরে স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, দুটি স্কুলের সবক’টি ক্লাসরুম ও বারান্দায় শিবিরের কাজকর্ম চলছে। দুই স্কুলের শিক্ষকরা নিজেদের বসার ঘরে থাকলেও কোনও পড়ুয়া নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বসন্ত বর্মন বলেন, ‘এদিন কোনও পড়ুয়া স্কুলে আসেনি।’ কেন আসেনি তা অবশ্য তিনি খোলসা করেননি। জুনিয়ার হাইস্কুলের টিচার ইনচার্জ অভিজিৎ সরকারও একই কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘কয়েকজন পড়ুয়াকে স্কুলের মাঠে দেখেছি। তবে তারা ইউনিফর্ম পরে ছিল না।’ স্থানীয়দের কয়েকজন বলেন, কয়েকজন পড়ুয়া স্কুলে এসেছিল। কিন্তু শিবিরে লোকজনের ভিড় দেখে তারা ফিরে যায়।
ওই স্কুল দুটি মাথাভাঙ্গা ৩ নম্বর সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত। সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মতিউর রহমানের প্রতিক্রিয়া, স্কুল খোলা ছিল। কেন পড়ুয়ারা আসেনি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকেও ২ অগাস্ট থেকে সরকারি এই শিবির শুরু হয়েছে। চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। দুর্গোৎসবের জন্য মাঝে কয়েকদিনের ছুটি রয়েছে। বুথ স্তরের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে সেগুলির দ্রুত সমাধান করাই শিবিরের উদ্দেশ্য। তৃণমূল স্তরে দ্রুত উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার বুথপ্রতি ১০ লক্ষ টাকা খরচের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। কিন্তু স্কুলের ক্লাস শিকেয় তুলে শিবির বসানো নিয়েই বিতর্ক উঠছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন আগে শীতলকুচির বিধায়ক বিজেপির বরেনচন্দ্র বর্মন আগেই বলেছিলেন, আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান শিবির আইওয়াশ মাত্র। আসলে বাংলার ছেলেমেয়েদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। এদিন অবশ্য তাঁর বক্তব্য মেলেনি।
সরকারি ওই শিবির নিয়ে সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রসেনজিৎ সরকারের কটাক্ষ, ‘বর্তমান সরকারের আমলে স্কুল উঠে যাচ্ছে, মদের দোকান বাড়ছে। শিবিরের নামে স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ থাকলে তাই সরকারের কিছু যায় আসে না।’
