শহর থেকে শহরতলি, উত্তর থেকে দক্ষিণ, ঐতিহ্যের বনেদি বাড়ি থেকে নামকরা বারোয়ারি। পুজো পরিক্রমার বিশেষ বন্দোবস্ত রাজ্য সরকারের। বাসে-ট্রামে-লঞ্চে ঠাকুর দেখার সুযোগ পাবেন রাজ্যবাসী। নির্ঝঞ্ঝাটে পুজো দেখার সঙ্গে দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে খাবার-দাবারের ব্যবস্থাও। এদিন পুজো পরিক্রমার রুট সহ যাবতীয় তথ্য বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং। তাহলে আর দেরি কেন? এই রুট ধরেই এবার পুজো হপিং প্ল্যানটা সেরে নিন। ভাবছেন, কীভাবে বুকিং করবেন? জেনে নিন।
উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার বনেদি বাড়ি
সপ্তমী১, সপ্তমী২, অষ্টমী, ও নবমী ভলভো এসি বাসে পরিক্রমা। যাত্রা – সকাল ৮টায় এসপ্ল্যানেড বাস টার্মিনাস থেকে। যে পুজোগুলি দেখানো হবে – বদন চন্দ্র রায় বাড়ি, বাগবাজার হালদার বাড়ি, বেলুড় মঠ, শোভাবাজার রাজবাড়ি-১, শোভাবাজার রাজবাড়ি- ২, ছাতুবাবু ও লাটুবাবুর বাড়ি (অষ্টমী ব্যতীত), রাণী রাসমণির বাড়ি, বেহালা রায় বাড়ি, বেহালা সোনার দুর্গা বাড়ি, সাবর্ণ রায় চৌধুরী বাড়ির আটচালার পুজো, সাবর্ণ রায় চৌধুরীদের মেজো বাড়ির পুজো। ভাড়া – ২৪০০ টাকা (জনপ্রতি), ৫-১০ বছরের শিশুদের জন্য ১৮৫০ টাকা, ৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের ফ্রি।
আরও পড়ুন:
শহরতলি থেকে কলকাতার বনেদি বাড়ি
সপ্তমী১, সপ্তমী২ ও নবমীতে ভলভো এসি বাস ছাড়বে। যাত্রা – সকাল ৮ টায় বারাসাত কলোনী মোড় থেকে। যে পুজোগুলি দেখানো হবে – মানিকতলার ঘোষ পরিবার, মানিকতলার সাহা পরিবার, কুমারটুলি সেন পরিবার দুর্গাপুজো, শোভাবাজার রাজা রাজকৃষ্ণ দেবের দুর্গাপুজো, শোভাবাজার বড়ো রাজবাড়ী, চোরবাগান চট্টোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজো, চোরবাগান মিত্র পরিবারের দুর্গাপুজো, চোরবাগান শীল পরিবারের দুর্গাপুজো, দাঁ বাড়ির দুর্গাপুজো, জোড়াসাঁকো শিবকৃষ্ণ দাঁ বাড়ির দুর্গাপুজো, জানবাজার চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো, রানী রাসমণি বাড়ির দুর্গাপুজো (২টি), ঠনঠনিয়া দত্ত বাড়ির দুর্গাপুজো, ঠনঠনিয়া লাহা পরিবারের দুর্গাপুজো। ভাড়া – ২৫০০ টাকা (মাথাপিছু)। ৫-১০ বছরের শিশুদের ১৯০০ টাকা।
কলকাতার বারোয়ারি
সপ্তমী১, সপ্তমী২ ও নবমীতে সকাল ৯ টায় বাস ছাড়বে। যাত্রা শুরু – এসপ্ল্যানেড ও বারাসাত থেকে। যে পুজোগুলি দেখানো হবে – একডালিয়া, সিংহী পার্ক, বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, মুদিয়ালী, শিবমন্দির, মহঃ আলি পার্ক, কলেজ স্কোয়ার, বাগবাজার সর্বজনীন, বাগবাজার পল্লী। ভাড়া – বারাসাত থেকে মাথাপিছু ২৫০০ টাকা ও এসপ্ল্যানেড থেকে মাথাপিছু ২৪০০ টাকা।
এছাড়াও শহরতলি থেকে কলকাতার বিখ্যাত বারোয়ারি পুজোগুলি দেখানোর জন্য বিশেষ সিএনজি বাস চালাবে সরকার। হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন সিটিসি টার্মিনাস, টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো থেকে, ডানলপ মোড় থেকে সকাল ৯ টা ১৫ মিনিটে বাস ছাড়বে। ভাড়া মাথাপিছু ১০০০ টাকা। বারাকপুর থেকে সকাল ৮ এই বিশেষ বাস ছাড়বে। ভাড়া – ১১০০ টাকা জনপ্রতি। সপ্তমীর দু’দিন এবং নবমীতে দর্শনার্থী সংশ্লিষ্ট স্টপেজ থেকে তুলে ঠাকুর দেখিয়ে আবার ওই স্থানেই নামিয়ে দেবে বাস। যে পুজোগুলি দেখানো হবে – মুদিয়ালী, একডালিয়া, সিংহী পার্ক, বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, মুদিয়ালী, শিবমন্দির, কলেজ স্কোয়ার, বাগবাজার সর্বজনীন, বাগবাজার পল্লী।
বাসে পুজো পরিক্রমায় শুধু পুজো দেখাই নয়, বিশেষ পেটপুজোরও ব্যবস্থা থাকবে। জলখাবার, পুরানো দিনের হারিয়ে যাওয়া বাঙালি খাবারে মধ্যাহ্নভোজ, চা এবং পানীয় জল। প্রত্যেক দর্শনার্থীর সঙ্গে সচিত্র পরিচয়পত্র রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি বাসে থাকবে একজন করে যাত্রী সহায়ক। থাকবে বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা। বিস্তারিত জানতে পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ নিগমে যোগাযোগ করতে পারেন। যোগাযোগ: ৮৬৯৭৭৩৩৩৯১/৮৬৯৭৭৩৩৩৯২, হোয়াটস্অ্যাপ: ৯৮৩০১৭৭০০০
এসি ট্রামে কলকাতার পুজো
যাত্রা – এসপ্ল্যানেড-শ্যামবাজার-এসপ্ল্যানেড-গড়িয়াহাট-এসপ্ল্যানেড। সপ্তমী১, সপ্তমী২, অষ্টমী ও নবমীতে সকাল ১০ টা ছাড়বে ও যাত্রা শেষে একই জায়গায় ফিরে আসবে। যে দর্শনীয় পুজোগুলি ঘুরে দেখানো হবে – কাশিবোস লেন, হাতিবাগান সর্বজনীন, নলিনী সরকার স্ট্রীট, একডালিয়া, সিংহীপার্ক। ভাড়া – ৫ বছর ও তার উর্ধ্বে দর্শনার্থীদের জন্য ৮০০ টাকা।
জলপথে উত্তরের পুজো
সপ্তমীর ২ দিন, অষ্টমী ও নবমীতে লঞ্চে ঠাকুর দেখার সুযোগ। যাত্রা – মিলেনিয়াম পার্ক থেকে লঞ্চ ছাড়বে সকাল ১১ টায়। হাওড়া জেটি ঘুরে পৌঁছবে আহিরীটোলা ঘাটে, সেখানে অপেক্ষমান এসি বাসে নিয়ে যাওয়া হবে বিশিষ্ট পুজোগুলির প্রাঙ্গণে। যাত্রাপথে – আহিরীটোলা সংলগ্ন পুজোগুলি, শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো, কুমারটুলী পার্ক ও সর্বজনীন জগৎ মুখার্জী পার্কের পুজো। তারপর নিয়ে যাওয়া হবে বলরাম মন্দির ও শ্রীশ্রী মায়ের বাড়ি। শেষে বাগবাজার সর্বজনীন পুজোমন্ডপ দেখে দর্শনার্থীদের বাগবাজার স্টিমার ঘাটে আবার লঞ্চে তুলে দেওয়া হবে যা হাওড়া জেটি ঘুরে মিলেনিয়াম পার্কে শেষ হবে। সময়কাল – আনুমানিক ৫ ঘন্টা। ভাড়া – জনপ্রতি ৮০০ টাকা।
শহর থেরে দূরে, গ্রাম বাংলার পুজো দেখার সুযোগ থাকবে। ধান্যকুড়িয়া, আড়বেলিয়া গ্রামেও পৌঁছে যাবে সরকারি বাস। জয়রামবাটিতে মহাষ্টমীর বিশেষ পুজো দেখানো হবে। এর সঙ্গে গঙ্গাবক্ষে বিসর্জন দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে সরকারি তরফে। কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন ঘাট থেকে জেটিতে বসে প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
