উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ খাতায়-কলমে বর্ষা বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এলেও বৃষ্টির হাতছানি কাটছে না। বরং শরৎকালেও বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ল (West Bengal Climate Forecast)। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই ডিভিসি (DVC)-র ছাড়া জলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং নদীর জলস্তর বিপদসীমার দিকে এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চল অবস্থান করছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রতল থেকে ৭.৬ কিলোমিটার উঁচুতে রয়েছে। পাশাপাশি, বর্ষাকালীন অক্ষরেখা রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডের ওপর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে দিঘা হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ওপর আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গে জলীয় বাষ্পের অনুপ্রবেশ বেড়ে গেছে, যার জেরে এই লাগাতার বৃষ্টিপাত।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাস:
- শুক্রবার: মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে শুক্রবার ও শনিবার বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
- রবি ও সোমবার: এই দু’দিন বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও স্বস্তি মিলছে না।
- বুধবার থেকে ফের বাড়বে বৃষ্টি: আগামী বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে ফের ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।
উত্তরবঙ্গে কেমন থাকবে আবহাওয়া? উত্তরের জেলাগুলিতেও বৃষ্টি চলবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া কোচবিহারে রবিবার ও সোমবার এবং আগামী মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, সেখানে শনিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে, শুক্রবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৪ ডিগ্রি কম) এবং বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৮ ডিগ্রি কম)। একটানা এই বৃষ্টির ফলে জনজীবন ও স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

