উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শেষ হয়েও হলো না শেষ। ২৯ এপ্রিলের স্মৃতি উসকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম এবং হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে ফের সচল হলো ইভিএম। বুথ দখল, গোলমাল নাকি অন্য কোনো রহস্য? রিটার্নিং অফিসার ও পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে কমিশনের কড়া নির্দেশে শনিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে পুনর্নির্বাচন (WB Repoll 2026)।
মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের ১১টি এবং ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের ৪টি— মোট ১৫টি বুথে আজ ভাগ্য নির্ধারণ করছেন সাধারণ মানুষ। উত্তর ইয়ারপুর এফপি স্কুল, নাজরা এফপি স্কুল থেকে শুরু করে বাগদা জুনিয়র হাইস্কুল এবং রায়নগর এফপি স্কুলের বাইরে আজ সকাল থেকেই চোখে পড়ার মতো লাইন। ভোটারদের চোখেমুখে যেমন ছিল দায়বদ্ধতা, তেমনই ছিল গত দফার অভিজ্ঞতার চাপা উত্তেজনা।
কমিশন সূত্রে খবর, গত ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন এই কেন্দ্রগুলোর বেশ কিছু বুথ থেকে গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল। কোথাও সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করে দেওয়া, আবার কোথাও ইভিএমে অনিয়মের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন পর্যবেক্ষকরা। যাবতীয় পরিস্থিতি বিচার-বিবেচনা করেই কমিশন এই ১৫টি বুথের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। আজকের ভোট প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে, তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী।
মগরাহাট (Magrahat) ও ডায়মন্ড হারবারে (Diamond Harbour) ভোট শুরু হলেও, রাজনৈতিক মহলের নজর এখন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ওপর। সেখানে এখনও পুনর্নির্বাচনের কোনো নির্দেশ আসেনি ঠিকই, তবে স্বস্তিতে নেই কোনো পক্ষই। জানা গিয়েছে, ফলতার ৩০টিরও বেশি বুথের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও ইভিএমে টেপ লাগানো ছিল, আবার কোথাও বুথের সিসিটিভি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কিছু বুথে ১০০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়েছে— যা পরিসংখ্যানগতভাবে কমিশনের আতসকাঁচের নীচে। রিটার্নিং অফিসারের চূড়ান্ত রিপোর্টের পরই জানা যাবে ফলতার ভবিষ্যৎ। আপাতত ১৫টি বুথের এই ‘সেকেন্ড ইন ইনিংস’ ঘিরে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। গণনার আগে এই ভোট বদল কি সমীকরণ পালটে দেবে? উত্তর মিলবে শীঘ্রই।
