উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোর তখন চারটে। চারিদিক যখন নিঝুম, তখনই শহরের এক হাই-প্রোফাইল স্ট্রং রুমে (Robust Room CCTV Controversy) শুরু হলো রহস্যজনক আনাগোনা। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ৮টি ব্যালট বক্স ঢোকানোকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। রণংদেহি মেজাজে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
তৃণমূলের অভিযোগ, ভোট গণনার আগেই পোস্টাল ব্যালটে কারচুপির এক নীল নকশা তৈরি হয়েছে। ভোররাতে আসা ৮টি ব্যালট বক্স এমন একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। দলের পক্ষ থেকে সিসিটিভি মনিটরিং স্ক্রিনের ছবি এবং একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের আপত্তি সত্ত্বেও জোর করে সেই বাক্সগুলো নির্দিষ্ট ঘরে ঢোকানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যে বাক্সগুলো অনেক আগে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা কেন শেষ রাতে সিসিটিভিহীন ঘরে ঠাঁই পেল?
ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই শুক্রবার সকালে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে পৌঁছান বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। নিজেই সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখেন তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলেও কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা অভিযোগ করেছিলেন যে, সিল করা স্ট্রং রুমের ভেতর নিয়মবহির্ভূতভাবে বহিরাগতরা ঢুকছে। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা হলের সামনেই অবস্থানে বসে পড়েন।
বিক্ষোভ চলাকালীন সেখানে মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একদিকে তৃণমূল কর্মীদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অন্যদিকে পাল্টা ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি— দুই পক্ষের বাকযুদ্ধে উত্তাল হয় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের চত্বর। পরিস্থিতি সামলাতে নাস্তানাবুদ হতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। গোটা এলাকা এখন গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।
এই উত্তেজনার আবহেই নির্বাচন কমিশন (ECI) জানিয়েছে, গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ইসিআই-নেট’ (ECINET) নামক একটি বিশেষ মডিউল চালু করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচটি রাজ্যে এটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে কমিশনের এই প্রযুক্তিগত নজরদারি কি রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে পারবে? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।
