উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ বলিউডের পর্দায় যাঁকে আমরা রিল-লাইফ ‘কমান্ডো’ হিসেবে চিনি, বাস্তব জীবনেও তাঁর যাপন কোনও রোমাঞ্চকর অভিযানের চেয়ে কম নয়। তিনি বিদ্যুৎ জামওয়াল। সচরাচর জিম বা প্রোটিন শেকের গণ্ডিতে নিজেকে আটকে রাখেন না এই অ্যাকশন স্টার। তবে সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি ভিডিও ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, লোকচক্ষুর আড়ালে গভীর অরণ্যে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় গাছে গাছে অবলীলায় লাফিয়ে বেড়াচ্ছেন অভিনেতা।
অনুরাগীদের উদ্বেগ ও বিদ্যুতের দর্শন
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ তাঁর মানসিক স্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে ট্রোলের পরোয়া না করে বিদ্যুৎ সামনে এনেছেন এক প্রাচীন জীবনদর্শনের কথা। বিদ্যুৎ জানান, প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে তিনি শহুরে বিলাসিতা ত্যাগ করে প্রকৃতির আশ্রয়ে চলে যান নিজের ‘আত্মার খোঁজে’। একে তিনি অভিহিত করেছেন ‘সহজা’ নামে।
বিদ্যুতের ভাষায়,”সহজা মানে হল প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়া এবং নিজের সহজাত প্রবৃত্তিতে ফিরে আসা। একজন কালারিপায়াত্তু শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বছরের এই সময়টা প্রকৃতির গভীর সংযোগ ও অভ্যন্তরীণ সচেতনতার মধ্যে কাটাতে পছন্দ করি।”
কাদা থেকে বরফজল: বিদ্যুতের কঠিন সাধনা
বিদ্যুৎ জামওয়ালের শরীরচর্চার ধরণ বরাবরই ভিন্ন। কখনও হাড়কাঁপানো বরফজলে দীর্ঘক্ষণ ডুবে থাকা, আবার কখনও গলা পর্যন্ত কাদায় নেমে স্নান করা— নিজেকে চাঙ্গা রাখতে এভাবেই হরেক রকমের কঠিন ট্রেনিং করেন তিনি। কেবল শারীরিক শক্তি নয়, মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোই তাঁর আসল লক্ষ্য।
শিকড়ের টানে কালারিপায়াত্তু
জম্মুর এক সেনা পরিবারে জন্ম নেওয়া বিদ্যুতের ছোটবেলা কেটেছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে তাঁর অদম্য শক্তির উৎস লুকিয়ে আছে কেরালায়। মাত্র তিন বছর বয়স থেকে মায়ের আশ্রমে প্রাচীন মার্শাল আর্ট ‘কালারিপায়াত্তু’ (Kalaripayattu) শিখছেন তিনি। নেটিজেনদের মতে, গ্ল্যামার জগত থেকে দূরে গিয়ে বিদ্যুতের এই ‘বুনো’ যাপন আসলে এক বার্তাই দেয় যে— কৃত্রিমতার চেয়ে প্রকৃতির শক্তি অনেক বেশি কার্যকর।
