অরুণ ঝা ও রিমি শীল, ইসলামপুর ও কলকাতা: কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের পর চাকুলিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক আলি ইমরান রমজ ওরফে ভিক্টরের (Victor Congress expulsion) রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন তৃণমূলে তিনি যোগ দিতে পারেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘জননেত্রী’ বলে সম্বোধন করে ভিক্টর সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি এখনই কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। ভিক্টরের বক্তব্য, ‘ইসলামপুর মহকুমার তৃণমূলের চার বিধায়ক তো বিজেপির বি টিমে নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু শহিদ দিবসে প্রমাণিত হয়েছে মমতাই একমাত্র জননেত্রী। মতবিরোধ থাকলেও তাঁর লড়াকু মনোভাবের জন্য আমি অবশ্যই তাঁকে শ্রদ্ধা করি। তবে এখনই কিছু বলব না। এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
সম্প্রতি প্রদেশ কংগ্রেসের (Congress) তরফে ভিক্টরকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপরই তিনি রায়গঞ্জের প্রাক্তন সাংসদ দীপা দাশমুন্সি এবং উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যালঘু তাস খেলে তাঁকে দল থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ছেলের রাজনৈতিক জমি তৈরি করার লক্ষ্যেই দীপা জেলা নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন বলে ভিক্টরের দাবি। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীররঞ্জন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরাগভাজন হয়েছেন তিনি। দল থেকে বহিষ্কারের পর শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অধীররঞ্জন চৌধুরী এবং প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেছেন।
ভিক্টর বলেন, ‘রায়গঞ্জ লোকসভা আসনে দীপা দাশমুন্সি ২০১৯ সালে ৮০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে আমি ২.৬৩ লক্ষ ভোট পেয়েছিলাম। আগামীদিনে কংগ্রেসে আমার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এমনটা করা হয়েছে।’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘দীপা দাশমুন্সি ওই আসনে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করতে চাইছেন। আর প্রদেশ সভাপতি নিজের পদ টিকিয়ে রাখার জন্য দীপার নির্দেশে চলছেন। বহিষ্কার ও সাসপেনশনের চিঠিতে যাঁর স্বাক্ষর রয়েছে, তিনি এবং আমি দুজনে সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছি। কীভাবে সমান পদাধিকারী আরেকজনকে বহিষ্কার করেন? আমায় আত্মসমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।’
অন্যদিকে, দীপার প্রতিক্রিয়া, ‘দলবিরোধী কাজের জন্য যাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাঁর তোলা অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করার রুচি আমার নেই। তবে আমার পরিবারের রাজনৈতিক লিগ্যাসি রয়েছে।’ মোহিত সেনগুপ্তের দাবি, ভিক্টরকে দলে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণেই কংগ্রেস নেতৃত্ব তাঁকে বহিষ্কার করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইসলামপুর মহকুমার চার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে নব্য তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সংখ্যালঘু প্রধান চারটি আসনের সাধারণ ভোটার এবং নীচুতলার তৃণমূল কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ।
উত্তরবঙ্গজুড়ে তৃণমূলের এই সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগ ভিক্টর কাজে লাগাতে চাইছেন বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। গত লোকসভা এবং একাধিক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের হিসেবও ভিক্টরের রাজনৈতিক গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করছে। তাঁকে হারাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোয়ালপোখর এবং চাকুলিয়ায় একাধিক প্রচারসভা করেছিলেন। ভিক্টরের বিরুদ্ধে ‘ভিক্টর ফোকাস’ রাজনৈতিকভাবে এলাকায় তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। ভিক্টর জানিয়েছেন, তাঁর পুরোনো দল ফরওয়ার্ড ব্লক, কালীঘাট তৃণমূল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তরফেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ‘ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য দলের দরজা আমার জন্য খোলা। দেখা যাক জল কোনদিকে গড়ায়।’

