উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ অপারেশন ‘অ্যাবসলিউট রিসলভ’ (Operation Absolute Resolve) চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) বন্দি করার পর এবার সে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরমে উঠল বিতর্ক।”আমেরিকা ভেনেজুয়েলা চালাবে” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। (Venezuela Disaster) ভারত ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামলেন মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও (Marco Rubio)।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট-হীন ভেনেজুয়েলাকে আপাতত পরিচালনা করবে আমেরিকাই। কিন্তু এই মন্তব্যে ‘সাম্রাজ্যবাদে’র গন্ধ পাওয়ায় বিতর্ক শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে মার্কো রুবিও জানান, আমেরিকা সরাসরি প্রশাসনিক কোনও ভূমিকা পালন করবে না। বরং ওয়াশিংটন কারাকাসের (ভেনেজুয়েলার রাজধানী) নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
রুবিও জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রধান মাধ্যম হবে সে দেশের তেল সম্পদ। ইতিমধ্য়েই ভেনেজুয়েলার একাধিক তেলের ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। যতক্ষণ না ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আমেরিকার ইচ্ছা অনুযায়ী আমূল পরিবর্তন আসছে, ততক্ষণ এই ট্যাঙ্কারগুলো ছাড়া হবে না। মাদক পাচার রুখতে এবং কারাকাসের নীতি পরিবর্তনে এই ‘তেল-রাজনীতি’কেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সরাসরি দেশ চালানোর কথা অস্বীকার করলেও রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে বা তারা কী কাজ করবে—তার সবটাই পর্যালোচনা (Evaluate) করবে আমেরিকা। এমনকি ভেনেজুয়েলার রাস্তায় মার্কিন সেনা মোতায়েন করার সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। অর্থাৎ, শাসন ক্ষমতা স্থানীয়দের হাতে থাকলেও রিমোট কন্ট্রোল থাকবে ওয়াশিংটনের হাতেই।
আজ, সোমবার ম্যানহাটনের ফেডেরাল কোর্টে প্রথমবারের মতো পেশ করা হবে বন্দি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। মাদক পাচারের ওপর ভিত্তি করে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার চালানোর অভিযোগে তাঁর বিচার শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন নজর রাখছে দুটি বিষয়ে— এক, আদালতে মাদুরো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান কি না; এবং দুই, আমেরিকার এই ‘দাদাগিগি’র বিরুদ্ধে রাশিয়া বা চিন কোনও পাল্টা পদক্ষেপ নেয় কি না।
