প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বিশ্বকর্মা পুজোর দখলদারিকে কেন্দ্র করে এবিভিপি (ABVP)-র দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বর্ধমানের (Bardhaman) ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ইউআইটি) (UIT)। এই গোলমালের জেরে বৃহস্পতিবার থেকে কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত ক্লাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনীল কারফর্মার। একই সঙ্গে কলেজের ভেতরে থাকা দুটি ছাত্রবাসও খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিশ্বকর্মা পুজো করা নিয়ে এবিভিপির সঙ্গে যুক্ত দুই ছাত্রপক্ষই আলাদাভাবে আবেদন করেছিল এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ উভয়পক্ষেরই আবেদন মঞ্জুর করেছিল। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যায় এক পক্ষ অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে লিখিতভাবে জানাতে বলে যে শুধুমাত্র তাদের পুজোটিকেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এই অনৈতিক চাপ সৃষ্টি মেনে না নিয়ে তৎক্ষণাৎ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে খবর দেন। অভিযোগ, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই দুই পক্ষের শতাধিক সদস্য মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন বুধবার সন্ধ্যায় পিস্তল, বাঁশ ও পেরেক লাগানো লাঠি হাতে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে অধ্যক্ষের ঘরে চড়াও হয় একাংশ ছাত্র। অধ্যক্ষের ঘরের পিছনের দরজা ভেঙে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। হামলায় বেশ কয়েকজন জখম হন এবং প্রাণ বাঁচাতে অনেকে শৌচাগারের ভিতর লুকিয়ে আশ্রয় নেন। এই ঘটনায় নির্দিষ্ট তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ নিজে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি, হামলায় জখম হওয়া ছাত্ররাও আলাদাভাবে থানায় অভিযোগ করেছে। পুলিশ দুটি অভিযোগ একত্র করে তদন্ত শুরু করেছে এবং কলেজ চত্বরে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
পুরো ঘটনায় কলেজ চত্বরে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একদিকে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের একটি পক্ষ তাদের পুজোর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে এবিভিপির বর্ধমান মহানগরের সম্পাদক সুশোভন চৌধুরী দাবি করেছেন যে ইউআইটিতে তাদের কোনও সংগঠন নেই এবং যে প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে তার সঙ্গে সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই। পুলিশি তদন্তেই স্পষ্ট হবে এই হিংসার নেপথ্যে ঠিক কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে।

