উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শনিবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হল তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) পরিবেশনের সময় কংগ্রেসের (Congress) সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) এবং কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধিকে (Sonia Gandhi) হাত নেড়ে গান থামানোর নির্দেশ দিতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কয়েক মুহূর্ত পরেই কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধিকেও (Rahul Gandhi) একই ধরনের ভঙ্গি করতে দেখা যায় (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরাসরি কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদী মনোভাব এবং জাতীয় গানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জাতীয় গানকে অবমাননা করার অভিযোগ এনে সরব হয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় নেমেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। পুরো বিতর্কের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার প্রয়াস চালিয়ে দলের প্রবীণ নেতা অশোক গেহলট সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, এই নিয়ে অযথা কোনও বিতর্ক তৈরির জায়গা নেই। দলের হাইকমান্ড কিংবা মিডিয়া ইন-চার্জ জয়রাম রমেশ বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের সরকারি অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে দেবেন। এনিয়ে পরবর্তীতে জয়রাম রমেশ বলেন, ‘বন্দে মাতরম নিয়ে কোনও বিতর্কই নেই। ১৯৩৭ সালের অক্টোবরে মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সি. রাজাগোপালাচারী এবং পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুকে নিয়ে গঠিত কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দলীয় অনুষ্ঠানগুলিতে জাতীয় স্তোত্রের শুরুর অংশটুকুই গাওয়া হবে। সেই প্রথা আজও নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে। এখানে বিতর্কের কিছু নেই।’
উল্লেখ্য, লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মূল স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘যথাযোগ্য প্রোটোকল’ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে অনুপস্থিত ছিলেন দুই কক্ষের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে। তার পরপরই দলের সদর দপ্তরে বন্দে মাতরম বিতর্ক কংগ্রেসকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তির এই আবহে যেখানে সংসদের বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি থেকে শুরু করে লালকেল্লার অনুষ্ঠান— সর্বত্র এই জাতীয় গানের বিশেষ বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে আকবর রোডের এই ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

