উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালের পর প্রথম মাঠে নামলেন। আর নেমেই চেনা ছন্দে লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। জোড়া গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে নিখুঁত দক্ষতায় একটি গোল করালেন আর্জেন্তিনার এই ফরোয়ার্ড। তাঁর এই দাপুটে পারফরম্যান্সে ভর করেই আতলেতিকো সান লুইসকে ৪-২ ব্যবধানে পরাস্ত করল ইন্টার মায়ামি (Inter Miami)। বুধবার রাতের এই জয়ের ফলে লিগস কাপের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন এলএমটেন।
বিশ্বকাপের পর ক্লাবের জার্সিতে এটাই ছিল মেসির প্রথম ম্যাচ থেকে শুরু করা লড়াই। এর আগে কলম্বাস ক্রু-র বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে মাত্র ৩৭ মিনিট মাঠে থাকলেও গোল পাননি। তবে এদিন প্রথম একাদশে ফিরেই নিজের জাত চেনালেন ৩৯ বছর বয়সি তারকা। লিগস কাপে এখন তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৪টি। মাত্র ১২টি ম্যাচ খেলে এই নজির গড়ে টুর্নামেন্টের চার বছরের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন মেসি। ভেঙে দিলেন লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি-র ডেনিস বোয়াঙ্গার ১৩ গোলের রেকর্ড।
বৃষ্টিভেজা রাতে নু স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় মায়ামি। মাত্র চার মিনিটের মাথায় দাভিদ রদ্রিগেজের জোরালো হেডে লিড নেয় আতলেতিকো সান লুইস। তবে সমতা ফেরাতে বেশি সময় নেয়নি দল। ১১ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে নোয়া অ্যালেনের লম্বা ক্রস ও লো ক্রস ধরে বিপক্ষ গোলরক্ষক আন্দ্রেস সাঞ্চেজকে পরাস্ত করে নিখুঁত ফিনিশ করেন মেসি।
২৬ মিনিটে তেলাস্কো সেগোভিয়ার গোলে মায়ামিকে এগিয়ে দেয়। এরপর প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে সতীর্থের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সের ডিফেন্ডারদের জটলার মাঝে ফের গোল করে দলের ব্যবধান বাড়ান মেসি। এখানেই শেষ নয়, প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইমে) কর্নার থেকে মেসির নিখুঁত মাপা ক্রসে হেডে গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার মিকায়েল। সান লুইসের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি শোধ করেন রাফা লোরেন্তে। ম্যাচে ইন্টার মায়ামির চার গোলের তিনটিতেই সরাসরি অবদান রইল মেসির। এছাড়া এই ম্যাচে তিনটি অ্যাসিস্ট রয়েছে নোয়া অ্যালেনের নামের পাশে।
ম্যাচ চলাকালীন দ্বিতীয়বার বজ্রপাতের কারণে প্রায় ৩০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখতে হয়েছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং সাময়িক বিরতিও মায়ামির ছন্দপতন ঘটাতে পারেনি। সব বাধা পেরিয়ে টানা আট ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল তারা।
সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল আর্জেন্তিনার। ‘লাস্ট ড্যান্স’ স্মরণীয় না হওয়ায় এবং বয়স ৩৯ হওয়ায় তাঁর অবসর নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত হতাশা ও জল্পনায় জল ঢেলে ক্লাবের জার্সিতে মাঠে নেমেই নিজের ক্ষিপ্রতা ও ফর্ম প্রমাণ করে দিলেন মেসি।
অন্যদিকে, এই ম্যাচে মায়ামি শিবিরে ছিলেন না লুইস সুয়ারেজ। গত চার ম্যাচে সাতটি গোল করে ফর্মে থাকলেও উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার খেলতে পারছেন না। গত বছর লিগস কাপের ফাইনালে সিয়াটলের বিরুদ্ধে ম্যাচে বিপক্ষ দলের এক সাপোর্ট স্টাফের দিকে থুতু ছেটানো এবং এক খেলোয়াড়ের গলা চেপে ধরার মতো গুরুতর অভিযোগে তিনি ৬ ম্যাচের জন্য নির্বাসিত রয়েছেন। সুয়ারেজের মতো তারকা স্ট্রাইকারের অনুপস্থিতি এবং দলের আক্রমণভাগে তাঁর অভাব এদিন এতটুকু বুঝতে দেননি মেসি। বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ও হতাশা ঝেড়ে মেসির এই ছন্দে ফেরা নিশ্চিতভাবেই স্বস্তি এনে দিয়েছে ভক্তদের শিবিরে।

