উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মাদক মামলার কেস ডায়েরিতে সঠিক নথি থাকা সত্ত্বেও আড়াল করা হচ্ছে অভিযুক্তদের। এই বিস্ফোরক অভিযোগে সিআইডির এডিজিকে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT Investigation) গঠনের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta Excessive Courtroom)। গত এক বছরে শুধুমাত্র শিলিগুড়ি এলাকাতেই এমন ১২৬ টি মাদক মামলায় অভিযুক্তরা জামিন পেয়েছেন। আব্দুল রউফ মোমিন নামে এক অভিযুক্তর হাইকোর্টে জামিনের আবেদনসূত্রে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আদালতের নির্দেশে অডিট রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসতেই বিচারপতি দেবাংশু বসাকের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, সিআইডিকে সিট গঠন করে নতুন করে বিষয়টি তদন্ত করতে হবে। তদন্তকারী দলের প্রধান হিসেবে এসপি পদমর্যাদার কোনও অধিকারিককে রাখতে হবে। ১২৬টি মামলার প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পুলিশকে নতুন করে এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘যে বা যারা আদালতের কাছে সত্য তথ্য পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে বা বিভ্রান্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ অপরিহার্য। এটি ধর্তব্যযোগ্য অপরাধ। সীমান্ত সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকায় মাদক মামলায় এভাবে অপরাধীদের ছাড় পাওয়া দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য যথেষ্ট বিপজ্জনক।’ গত মার্চ মাসে আব্দুলের আবেদনের শুনানির সময়ই আদালত জানায়, এনডিপিএস আইনের ৪২ ধারা না মানার অজুহাতে বারবার অভিযুক্তদের জামিন পাওয়া বা তদন্তকারীদের গাফিলতি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে। গত এক বছরে ৪২ ধারা অমান্যের কারণে যত মামলায় জামিন হয়েছে, তার অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয় শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে।
আদালতের নির্দেশে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট এবং লিগ্যাল রিমেমব্রেন্সারের জমা দেওয়া দুটি পৃথক অডিট রিপোর্টে প্রকাশ্যে আসে। তাতে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রধাননগর মাটিগারা, কালিম্পং, এনজেপি, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি, ফালাকাটা, চোপড়া, ডালখোলা থেকে শুরু করে কোচবিহার কোতওয়ালি, সাহেবগঞ্জ ও সিতাই থানার মতো মোট ২৯টি সুনির্দিষ্টি মাদক মামলার ক্ষেত্রে বেআইনি কাজ হয়েছে। বেশ কিছু মামলায় কেস ডায়েরিতে ৪২ ধারার নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলার স্পষ্ট প্রমাণ নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও আদালতে জামিনের শুনানির সময় সঠিক তথ্য পেশই করা হয়নি। কৌশলে তথ্য গোপন করে ও বিচারব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে অভিযুক্তদের জামিন পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সরকারি আইনজীবীদের ভূমিকাও। পুলিশ এনডিপিএস (NDPS Act) মামলার তদন্তে যে ৪২ বা ৫২ ধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপগুলো মানছে না, তা প্রথমেই নজরে পড়ার কথা সরকারি আইনজীবীদের। সেক্ষেত্রে তাঁরা কেন বিচারকদের সামনে ত্রুটিগুলো তুলে ধরছেন না, বা পুলিশকে সতর্ক করছেন না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এবার এই তদন্তে যুক্ত পুলিশ আধিকারিক এবং মধ্যস্থতাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপের জন্যই এবার সিটের ওপর দায়িত্ব দিল আদালত। পাশাপাশি আব্দুলের জামিনের আর্জিও খারিজ করা হয়েছে।

