উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আমেরিকার ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm election) রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবি কেবল মার্কিন সেনেট, হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভস এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের পদ ও আইনসভা হাতছাড়াই করেনি, বরং দলটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে চরম অভ্যন্তরীণ বিভাজন উন্মুক্ত করে দিয়েছে। নির্বাচনে অভাবনীয় ভরাডুবির পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জে ডি ভান্সের (Vance-Trump rift) পরস্পরবিরোধী প্রতিক্রিয়া তাঁদের স্পষ্ট দূরত্ব ফুটিয়ে তুলেছে, যেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট সরাসরি নিজ প্রশাসনের নীতি-কৌশল নিয়েই প্রশ্ন তুলে বসেছেন। সামরিক অভিযানটি ঘরোয়া রাজনীতিতে উল্টো ফল দিয়েছে বলে সরাসরি মেনে নিয়ে একটি দীর্ঘ সামাজিক মাধ্যম বার্তায় ভান্স উল্লেখ করেন যে ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার লাগামহীন খরচ বৃদ্ধি, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রয়োগে ঘাটতি এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিগত সমীকরণই রিপাবলিকানদের এই শোচনীয় পরাজয়ের মূল কারণ।
অন্যদিকে, সামরিক অভিযানের প্রভাব স্বীকার করেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই এবং সুযোগ পেলে তিনি আবারও একই পদক্ষেপ নেবেন। ভান্সের এমন খোলামেলা পর্যালোচনার জবাবে ট্রাম্প অত্যন্ত অস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “আমি জানতাম সে (ভান্স) কী মনে করে, এই বিষয়ে তার অনুভূতি কী—তাও আমার জানা আছে। আমার মনে হয় বিষয়টি ঠিকঠাকই ছিল, হ্যাঁ। আমার কাছে এটি ভালোই মনে হয়েছে। আর আমরাই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে বিরত রেখেছি”। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভান্স নিজেকে তুলে ধরার পথ তৈরি করছেন বলে যখন গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে, তখনই ট্রাম্পের এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য উত্তরাধিকারের বিষয়টিকে ঘোলাটে করে তুলেছে।
এই পরাজয় রিপাবলিকান নেতৃত্বের ভেতরে এক নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে, যেখানে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে সঠিক সময়ের মধ্যে কৌশল পুনর্মূল্যায়ন না করলে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ব্যাকফুটে চলে যেতে হবে দলকে। টেক্সাসের সেনেটর টেড ক্রুজ তাঁর পডকাস্টে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শুল্ক নীতি, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং ডাটা সেন্টার তৈরির বিরূপ প্রভাবে টেক্সাসের রাজনীতির পটপরিবর্তনের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের কথা শুনতে হবে এবং সাড়া দিতে হবে। আমাদের এমন অর্থনৈতিক নীতিগুলোর পক্ষে দাঁড়াতে হবে যা কর্মজীবী মানুষের জীবনে প্রকৃত পরিবর্তন আনে, এবং সেই সঙ্গে আমাদের এর ফলাফলগুলোর মোকাবিলাও করতে হবে।” এমনকি প্রাক্তন রিপাবলিকান সেনেটর মিট রমনিও কঠোর সমালোচনা করে লিখেছেন, “খারাপ নীতি আর খারাপ চরিত্র মিলে খারাপ রাজনীতির জন্ম দেয়। দেশ ও আমার দলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির মোড় ঘোরার (সংশোধনের) আশা রাখি।”
মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য কায়েম হওয়ায় এই মুহূর্তে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নেতৃত্বের শৈলী নিয়ে যেমন জোরালো প্রশ্ন উঠেছে, ঠিক তেমনই ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা আর ক্ষুব্ধ ভোটারদের আস্থা ফেরানোর মাঝে দাঁড়িয়ে ভান্সের পথও এখন বেশ জটিল রূপ নিয়েছে।

