‘দিল পে জখম খাতে হ্যায়, জান সে গুজরতে হ্যায়’। পাঞ্জাবি মুসলিম গায়ক ইমরান খানের কণ্ঠে রণবীর সিং অভিনীত ব্লক বাস্টার মুভি ‘ধুরন্ধর’-এর এই গান ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল দর্শকের মধ্যে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের বক্তব্য শুনলে বোঝা যায় তিনি ঠিক কতটা প্রতিভাবান একজন শিল্পী। ইমরানের কথায় আরও একবার প্রমাণিত, শিল্প কখনও নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমিত নয়। ‘ধুরন্ধর’ গায়ক ইমরান জপজি সাহিব যেমন পাঠ করেছেন তেমনই মুখস্থ করেছেন গায়ত্রী মন্ত্র। এখানেই শেষ নয়, ছোটবেলা থেকেই মা দুর্গার ভক্তিগীতি গেয়েছেন ইমরান। বাদ যায়নি শিব তাণ্ডব স্তোত্রও।
ইমরান খান ‘খান সাব’ নামেও বিশেষ পরিচিত। সংশ্লিষ্ট সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেন, “আমি জপজি সাহিব পাঠ করেছি। শিব তাণ্ডবও রেকর্ড করেছি। আমার মনে হয় না পাঞ্জাবি ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ শিব তাণ্ডব রেকর্ড করেছেন। আমি সমস্ত শ্লোক মুখস্থ করেছি। কাজটা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। কারণ আমি আগে কখনও সংস্কৃত ভাষায় কথা বলিনি। আমরা পাঞ্জাবি, তাই সংস্কৃত ভাষা আমাদের জানা নেই। কিন্তু আমার এক বন্ধু যখন বলল এটা রেকর্ড করা উচিত তখন আমি এক কথায় রাজি হয়ে যাই।”
আরও পড়ুন:
ধর্মীয় সহনশীলতা এবং প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি হজরত মহম্মদের বাণীর কথাও উল্লেখ করেন। ইমরান বলেন, “হজরত মহম্মদ বলেছেন, নিজের ধর্মকে সম্মান না করলে অন্যের ধর্মকে সম্মান করা যায় না। আবার নিজের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকলেও অন্যের ধর্মকে সম্মান করা সম্ভব নয়। তাই নিজের ধর্ম পালন করো। পাশাপাশি সকল ধর্মকেও সম্মান করো।” বিভিন্ন ধর্মের মন্ত্র ও ধর্মীয় স্তোত্র গাওয়ার কারণে কখনও তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি হয়েছে? কোনও বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে? এই মর্মে ইমরান স্পষ্ট জানান, তিনি সমালোচকদের নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন।
ইমরানের কথায়, “অনেকেই অনেক কথা বলেন। অনেক মন্তব্য করেন। কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কাকে উত্তর দেব? আমি জানি আমি কী করছি এবং নিজের ধর্মের প্রতি আমি সৎ। আমি জানি কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। আমি কারও অধিকার কেড়ে নিই না, ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাতও করি না। আমি জপজি সাহিব পাঠ করেছি এবং মানুষ সেটাকে ভালোবেসেছেন। শিখ ভাইয়েরা আমাকে ভীষণ ভালোবাসেন। হিন্দুরাও আমাকে পছন্দ করেন। আমি গায়ত্রী মন্ত্রও জানি। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান—আমরা সবাই ভাই ভাই।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
