উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিদেশ ভ্রমণের স্বপ্ন আর আগের মতো ‘সাশ্রয়ী’ থাকছে না। গত ১৪ বছর ধরে যে পাসপোর্টের ফি ছিল স্থিতিশীল, হঠাৎ করেই তাতে বড়সড় এক ধাক্কা দিল বিদেশ মন্ত্রক। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলা এই নতুন ফি কাঠামো (New Passport Charges) যেন সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে সাধারণ মধ্যবিত্তের বাজেটে।
২০১২ সালের পর এই প্রথমবার পাসপোর্টের ফি এতটা বাড়ানো হল। বিদেশ মন্ত্রকের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্বাভাবিক বা ‘নরমাল’ ক্যাটাগরির পাসপোর্টের দাম বেড়ে এখন ২৫০০ টাকা হতে চলেছে। আর জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট পাওয়ার ‘তৎকাল’ পরিষেবার খরচ ৩৫০০ টাকা থেকে একলাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫০০০ টাকায়। অর্থাৎ, তড়িঘড়ি বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে পকেট থেকে এখন বাড়তি ১৫০০ টাকা খসাতে হবে আবেদনকারীদের।
পরিবর্তনের খতিয়ান:
| পাসপোর্টের ধরন | পুরনো ফি | নতুন ফি (জুলাই ১ থেকে) |
| ৩৬ পৃষ্ঠা (নরমাল) | ১৫০০ টাকা | ২৫০০ টাকা |
| ৩৬ পৃষ্ঠা (তৎকাল) | ৩৫০০ টাকা | ৫০০০ টাকা |
| ৬০ পৃষ্ঠা (নরমাল) | ২০০০ টাকা | ৩৫০০ টাকা |
| ৬০ পৃষ্ঠা (তৎকাল) | ৪০০০ টাকা | ৬০০০ টাকা |
ফি বৃদ্ধির এই ঘোষণার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে সরকারের তরফে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফাই দেওয়া হয়। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করে দেয় যে, পাসপোর্ট (Indian Passport) শুধুমাত্র একটি ভ্রমণের নথি বা ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’। একে কোনোভাবেই ভারতীয় নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণপত্র হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এই মন্তব্যের পরই ফি বৃদ্ধির ঘোষণা আসায় রাজনৈতিক ও সাধারণ মহলে নতুন করে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
পড়াশোনা, চিকিৎসা বা পর্যটনের জন্য যারা নিয়মিত বিদেশে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এই বাড়তি খরচ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে যারা খুব অল্প সময়ের নোটিশে তৎকাল পাসপোর্টের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বাজেটে এই পরিবর্তন বড়সড় টান দেবে। সরকার অবশ্য এই বৃদ্ধির পেছনে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল পরিষেবার খরচ বাড়ার যুক্তিকেই সামনে রাখছে।

