উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের (Iran) সঙ্গে বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখলে যে কোনও দেশকেই আমেরিকার কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে (US Sanctions Warning)। সম্প্রতি এমনই কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। কিরগিজিস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের (Iranian President Masoud Pezeshkian) বৈঠকের পরই এই সতর্কবার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের একাংশ দাবি করেছিল, এই বৈঠকের পর ভারত ও ইরান নতুন কোনও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির পথে এগোতে পারে। তবে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও একটি সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে জানান, নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে এমন কোনও চুক্তি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করে বলেন যে, ‘বিভিন্ন দেশের নিজস্ব বিদেশনীতি থাকতেই পারে এবং ওয়াশিংটন নিজেও প্রয়োজনে তেহরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অতীতে যোগাযোগ রেখেছে।’
তবে কূটনীতির সুর চড়িয়ে রুবিও স্পষ্ট করে জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি অত্যন্ত পরিষ্কার। তেহরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বা রাজস্ব উপার্জনে কেউ সাহায্য করলে বরদাস্ত করবে না আমেরিকা। ওই অর্থ দিয়ে ইরান যাতে সন্ত্রাসবাদে মদত দিতে না পারে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ না পায়, সেদিকেই করা নজর রাখছে হোয়াইট হাউস।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি রুখতে মূলত অর্থনৈতিক চাপকেই প্রধান হাতিয়ার করছে মার্কিন প্রশাসন। তবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের অধিকারও সংরক্ষিত রাখা হয়েছে বলে জানান রুবিও। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে দুই দেশের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন হামলার তীব্র জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় ইরান এবার এক সম্পূর্ণ নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

