উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দলবদল করলেই কি জীবন বিপন্ন হতে পারে? প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার এবং বিজেপি নেতা হরভজন সিংয়ের (Harbhajan Singh) ক্ষেত্রে অন্তত সেই প্রশ্নই জোরালো হয়ে উঠেছে। আম আদমি পার্টি (আপ) (AAP) ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পরপরই তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয় পঞ্জাবের আপ সরকার। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং তাঁর বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে এবার পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন হরভজন সিং।
কিছুদিন আগে পর্যন্তও হরভজন সিং আপ-এর ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং পঞ্জাব পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা প্রদান করত। কিন্তু দল পরিবর্তনের এক সপ্তাহের মধ্যেই গত সপ্তাহে রাজ্য সরকার সেই নিরাপত্তা সরিয়ে নেয়। হরভজনের প্রশ্ন, ঠিক কীসের ভিত্তিতে এবং কোন নিরাপত্তা পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঠিক পরেই জলন্ধরে হরভজনের বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখান আপ কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি তাঁর বাড়ির দেওয়ালে ‘গদ্দার’ লিখে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রশ্ন তুলেছেন, নিরাপত্তা সরানোর পরক্ষণেই কারা এই তাণ্ডব চালাল এবং পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে? যদিও এই ঘটনার একদিন পরেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু পঞ্জাব সরকারের এই আচরণকে ছেড়ে দিতে রাজি নন ‘টার্বানেটর’।
হরভজনের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট পঞ্জাব সরকার এবং কেন্দ্রকে নোটিশ জারি করেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, অবিলম্বে হরভজনের বাড়িতে যারা তাণ্ডব চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হরভজন ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও পঞ্জাব সরকারকেই নিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
