উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আরও তীব্র আকার ধারণ করল আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত (US-Iran Battle)। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় একটি বিয়েবাড়িতে (Marriage ceremony) ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আমেরিকা (US Strikes)। ঘটনায় মহিলা ও শিশু সহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জনেরও বেশি। এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান।
জানা গিয়েছে, হরমুজে এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। তার জবাবেই পালটা আঘাত হেনেছে মার্কিন সেন্টকম (CENTCOM)। তবে বেসামরিক নাগরিকরা লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না বলে দাবি করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এদিকে, এই হামলার পর পালটা হামলা শুরু করেছে ইরানও। ইতিমধ্যেই কাতার, বাহরিন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি (IRGC)। শুধু তাই নয়, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আমেরিকার জন্য ‘ভুলতে না পারা শিক্ষা’ অপেক্ষা করছে।” এছাড়া আইআরজিসির মুখপাত্র হুসেন মোহেবিও এক্স হ্যান্ডেলের এক পোস্টে ওয়াশিংটনকে এই হামলার জন্য চরম অনুশোচনা করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর এই যুদ্ধের সূচনা হয়। দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে হরমুজ প্রণালী এখনো বন্ধ রেখেছে তেহরান। বিপরীতে ইরানি বন্দরগুলোতে পালটা অবরোধ বজায় রেখেছে আমেরিকা। সর্বশেষ মার্কিন হামলায় কেরমান প্রদেশে একটি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চাবাহার ও কোনারক অঞ্চলেও বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে।
এদিকে ইরানের দাবি, তাদের হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও সরঞ্জাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। মার্কিন অপরাধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই আক্রমণাত্মক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পালটা হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান বড় ধরনের প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করলে আমেরিকা এমন আঘাত হানবে যার পর ইরানের অস্তিত্বের সামান্য অংশই বাকি থাকবে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

