শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের সরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তছরুপের চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এলো (Monetary Rip-off)। চেকবুক জালিয়াতি করে ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই আলপনা সরকার নামে এক যুবতীকে গ্রেপ্তার করেছে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। ধৃত যুবতী শিলিগুড়ির শ্রবণনগর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, জালিয়াতি হওয়া টাকার মধ্যে ১৭ লক্ষ টাকা সরাসরি ওই যুবতীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছিল। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত, কাউন্সিলের পেনশন ক্লার্ক রঞ্জন দত্ত আপাতত পলাতক।
পুলিশ ও কাউন্সিল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মাসের ৫ তারিখে শিলিগুড়ি প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের কন্ট্রোলার অফ ফাইনেন্স ও ডিডিও একটি রিপোর্ট পেশ করেন। সেখানে দেখা যায়, সরকারি ব্যাংক স্টেটমেন্টের সঙ্গে পার্সোনাল ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের বইয়ের হিসেবের মধ্যে বিপুল ফারাক রয়েছে। এরপরই গত মাসের ৬ তারিখ শিলিগুড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার রায়।
অভিযোগপত্রে জালিয়াতির একটি চাঞ্চল্যকর নমুনাও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল একটি পাবলিকেশনের নামে ১৪,২৪০ টাকার একটি চেক (নম্বর: ৯৩৬৯৭৬) ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যাংক স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয় আধিকারিকদের। দেখা যায়, ওই চেকটি দিয়েই ব্যাংক থেকে নগদ ৯,১৪,২৪০ টাকা তোলা হয়েছে! তদন্তে জানা যায়, পাবলিকেশনের আসল প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে বাকি টাকা সম্পূর্ণ অপরিচিত দুই মহিলার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, গত এক বছরে এই ধরনের ১২টি ট্রানজ্যাকশনের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা তছরুপ করা হয়েছে। জালিয়াতি করার জন্য চেকে টাকার অঙ্কে ‘ওভাররাইট’ (কাটাকুটি) করা হতো এবং বেনিফিশিয়ারির নাম বদলে কন্ট্রোলার অফ ফাইনেন্সের সইও জাল করা হতো।
যেহেতু চেকবুক সামলানো থেকে শুরু করে ব্যাংকে চেক জমা দেওয়ার সমস্ত দায়িত্ব ছিল পেনশন ক্লার্ক রঞ্জন দত্তের ওপর, তাই স্বভাবতই চুরির মূল দায় বর্তায় তাঁর ওপর। চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার রায়ের লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ তদন্তে নামতেই গা ঢাকা দেন রঞ্জন। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে পুলিশ সোমবার রাতে শ্রবণনগর এলাকা থেকে আলপনা সরকারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
কাউন্সিলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আলপনার অ্যাকাউন্টে ১৭ লক্ষ টাকা ঢুকল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ধৃত আলপনার সঙ্গে পলাতক ক্লার্ক রঞ্জনের কী সম্পর্ক এবং এই চক্রে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা জানতে মঙ্গলবার ধৃতকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত আলপনাকে ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। পলাতক রঞ্জন দত্তের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ।

