Banarhat | একই পরিবারের তিনজনের রহস্যমৃত্যু! জঙ্গলে স্বামী-স্ত্রীর পর শ্মশানে আত্মঘাতী দেওর, চাঞ্চল্য বানারহাটে

Banarhat | একই পরিবারের তিনজনের রহস্যমৃত্যু! জঙ্গলে স্বামী-স্ত্রীর পর শ্মশানে আত্মঘাতী দেওর, চাঞ্চল্য বানারহাটে

শিক্ষা
Spread the love


বানারহাট: বানারহাটে (Banarhat) ঘটে গেল এক নজিরবিহীন এবং হাড়হিম করা ঘটনা। তিন দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের তিন সদস্যের রহস্যমৃত্যুকে (Loss of life) কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বানারহাট ব্লকের পূর্বদুরামারি এলাকায়। মোরাঘাট (Moraghat) জঙ্গল থেকে প্রথমে স্ত্রী ও পরে স্বামীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর, এবার খোদ বৌদির চিতাস্থলেই আত্মহত্যা করলেন দেওর। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েন নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো জটিল রহস্য? সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে বানারহাট থানার পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার। পূর্বদুরামারির বাসিন্দা, ৩৭ বছর বয়সী চুমকি রায়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় মোরাঘাট জঙ্গল থেকে। মাকে খুনের খবর পেয়েই মৃতার ১৪ বছরের নাবালক ছেলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়। সে জানায়, তার বাবা বিমল রায় তাকে মোবাইলে একটি ‘ভয়েস মেসেজ’ পাঠিয়েছেন। সেই বার্তায় বিমল স্বীকার করেন যে, তিনি নিজেই তাঁর স্ত্রীকে খুন করেছেন এবং এর অপরাধবোধ থেকে তিনি নিজেও আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। এই ঘটনার জন্য পরিবারের অন্য কেউ দায়ী নন বলেও জানান বিমল।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ও বনদপ্তর বুধবার রাতে মোরাঘাট জঙ্গলে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। তবে গভীর রাত পর্যন্ত খোঁজ না মেলায়, পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ঠিক দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে বিমল রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্বামী-স্ত্রীর এই জোড়া মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার এক চরম মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটে যায়। যেখানে চুমকি রায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল, সেই শ্মশানের চিতাস্থলেই গিয়ে আত্মহত্যা করেন চুমকির দেওর সনাতন রায়। গ্রামবাসীরা শ্মশানে দেহটি দেখে পুলিশে খবর দেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ সনাতন রায়ের মোবাইল ট্র্যাক করে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেয়েছে। জানা গিয়েছে, আত্মহত্যার ঠিক আগে সনাতন তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে বৌদি চুমকি রায়ের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ছবি পোস্ট করেছিলেন। তার পরেই তিনি শ্মশানে গিয়ে আত্মঘাতী হন। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সনাতনের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রাথমিক অনুমান, এই ত্রিকোণ সম্পর্কের জটিলতাই ডেকে এনেছে এমন ভয়ংকর পরিণতি।

এই নির্মম ও নজিরবিহীন ঘটনার জেরে পূর্বদুরামারি গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তবে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছে দম্পতির ১৪ বছরের নাবালক ছেলেটি। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে নিজের বাবা, মা এবং কাকাকে হারিয়ে সম্পূর্ণ অনাথ হয়ে পড়েছে সে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল উৎস জানতে সবকটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *