উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ফের হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) কাছে ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে (Iranian Navy Website) নতুন করে হামলা চালাল আমেরিকা (US-Iran Battle)। ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন সেনা ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, ওই এলাকায় মার্কিন কর্মীদের হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া বেশ কিছু ইরানি ড্রোনকেও গুলি করে নামানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্দর আব্বাসের কাছে ইরানের একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়, যেখান থেকে নতুন একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় গভীর রাত দেড়টা নাগাদ বন্দর আব্বাসের (Bandar Abbas) পূর্বে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, এনিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় পরপর দু’বার আক্রমণ করল আমেরিকা। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও হরমুজের কাছে থাকা ইরানি নৌবাহিনীর দু’টি বোট ধ্বংস করেছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত গত তিন মাসে হাজারো প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত অবসানের চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই ইরান একটি সমঝোতা প্রস্তাব পেশ করে দাবি করেছিল, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়ে একটি খসড়া তৈরি হয়েছে।
তবে ওয়াশিংটন এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রচার করা এই তথ্যের কোনও সত্যতা নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পালটা বার্তায় জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে মার্কিন হামলার জেরে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। একদিকে ওয়াশিংটনের ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযানের দাবি এবং অন্যদিকে তেহরানের পালটা হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন চরমে।
