‘শোনা গেল লাশকাটা ঘরে…’, জীবনানন্দের কবিতা ধার করে অনীক স্মরণে জয়া আহসান

‘শোনা গেল লাশকাটা ঘরে…’, জীবনানন্দের কবিতা ধার করে অনীক স্মরণে জয়া আহসান

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


প্রয়াত অনীক দত্ত। বুধবার দুপুরে পরিচালকের মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া। ২২ মে ছিল জন্মদিন। তার দিন পাঁচেক বাদেই যে নিয়তির ডাক আসবে সেটা বোধহয় স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি অনীকের বন্ধু-সহকর্মীরা! যে মানুষটি কোনওদিন আপস করেননি, যিনি শিরদাঁড়া নোয়ানোর সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না, এমনকী যাঁর রসবোধকে বন্ধু-সহকর্মীরাও ঈর্ষা করতেন! সেই মানুষটি যে এমন চরম কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কিছুতেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না পরিচালক-ঘনিষ্ঠরা। এহেন শোকসংবাদ পেয়ে বাংলাদেশ থেকেই অনীক স্মরণে জয়া আহসান।

অনীকের চলে যাওয়া যে শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, সেটা শুধু বাংলা সিনেমার ক্ষতি নয়, জয়া আহসানের কথায় এ ভারতীয় সিনেমার এক অপূরণীয় ক্ষতি। অভিনেত্রীর কথায়, “একটা নিরন্তর ফাঁক থেকে গেল বুঝি বা।…” 

আরও পড়ুন:

‘অপরাজিত’ পরিচালকের মৃত্যুতে আবেগপ্রবণ অভিনেত্রী। অনীক দত্তর আকস্মিক প্রয়াণের যন্ত্রণা ঘিরে ধরেছে জয়াকেও। অভিনেত্রী এইমুহূর্তে বাংলাদেশে রয়েছেন। সেখান থেকেই হাঁপুস নয়নে পরিচালকের স্মৃতিতে ডুব দিলেন জয়া আহসান। নায়িকার স্মৃতিচারণায় উঠে এল অনীকের ‘ভূতের ভবিষ্যত’, ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ থেকে ‘বরুণবাবুর বন্ধু’র মতো একাধিক ছবি। যেখানে পরিচালক স্যাটায়ারের মোড়কে জীবনবোধের পাঠ দিয়েছেন দর্শককে। জীবনানন্দ দাশের কবিতা ধার করে জয়া লিখেছেন, ‘শোনা গেল লাশকাটা ঘরে নিয়ে গেছে তারে/ কাল রাতে— ফাল্গুনের রাতের আঁধারে/ যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ/ মরিবার হলো তার সাধ- যদিও ফাল্গুন নয়, আজ কি পঞ্চমী তিথি? জানি না…। তবু আজ মনে মনে যতবার অনীকদার মুখের দিকে দেখছি, জীবনানন্দের এই কবিতা আমায় আষ্টেপৃষ্ঠে ধরছে।’

প্রয়াত অনীক দত্ত।

অনীকের চলে যাওয়া যে শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, সেটা শুধু বাংলা সিনেমার ক্ষতি নয়, জয়া আহসানের কথায় এ ভারতীয় সিনেমার এক অপূরণীয় ক্ষতি। অভিনেত্রীর কথায়, “একটা নিরন্তর ফাঁক থেকে গেল বুঝি বা। এই চলে যাওয়া তো কেবল চলে যাওয়া নয়, গুণমুগ্ধ দর্শকদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলে যাওয়া যেন। ‘ভূতের ভবিষ্যত’ থেকে ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ থেকে ‘অপরাজিত’- এ তো স্যাটায়ার থেকে জীবনের অভিযান। কিংবা উলটোটা। সে যাই হোক, সেটাই তো যাপন। সেই যাপনেই উজ্জ্বল হয়ে থেকে যাবেন অনীক দত্ত।”

বুধবার দুপুরে প্রথমটায় শোনা যায়, বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন পরিচালক। এরপর সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ইতিমধ্যেই অনীকের রহস্যমৃত্যুতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। যদিও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে অনুমান, পরিচালক আত্মঘাতীই হয়েছেন, কিন্তু এভাবে কি অনীক দত্তর চলে যাওয়া মানায়? আক্ষেপ সকলের।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *