Dinhata | উন্নয়ন এখন নেতার আঙিনায়! দিনহাটায় সরকারি পাম্প ও সোলার লাইট তৃণমূল নেতার খাস বাড়িতে

Dinhata | উন্নয়ন এখন নেতার আঙিনায়! দিনহাটায় সরকারি পাম্প ও সোলার লাইট তৃণমূল নেতার খাস বাড়িতে

শিক্ষা
Spread the love


অমৃতা দে, দিনহাটা: রাজ্য সরকার যখন ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় দিনহাটা (Dinhata)-১ ব্লকের পেটলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় উঠে এল ভিন্ন ও বিতর্কিত ছবি। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের বদলে পৌঁছে গিয়েছে শাসকদলের নেতার বাড়িতে।

দিনহাটা-১ ব্লকের পেটলা গ্রাম পঞ্চায়েতের জমাদারবস এলাকায় ৬/২৩০ নম্বর বুথে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অঞ্চল সভাপতি করুণাকান্ত রায়ের বাড়িতে গেলেই চোখে পড়ে একাধিক সোলার লাইট এবং একটি সোলার চালিত পানীয় জলের পাম্প। বাড়ির উঠোনে একটি সোলার লাইট স্থায়ীভাবে বসানো রয়েছে, অপর একটি লাইট পড়ে রয়েছে উঠোনের মাঝখানে। এই উঠোনেই রয়েছে পানীয় জলের পাম্প।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িটি প্রায়শই তালাবন্ধ থাকে। মাসে দু’-তিনবার করুণাকান্ত সেখানে যান। অথচ প্রায় পাঁচ বছর ধরে রাতেরবেলা ওই বাড়ির উঠোনে নিয়মিত জ্বলে ওঠে সোলার লাইট। এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বললে কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তবে পানীয় জলের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, জল দরকার হলে ওই বাড়ির ভেতর থেকেই নিতে হয়।

বছর পাঁচেক আগে সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রায় চার লক্ষ টাকা ব্যয়ে ওই সোলার পাম্প বসানো হয়। সেই সময় করুণাকান্ত রায় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত প্রকল্প হলেও তা বসানো হয়ে শাসকদলের নেতার ব্যক্তিগত বাড়িতে, যা সম্পূর্ণভাবে অনৈতিক। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূল নেতা প্রভাব খাটিয়ে সরকারি প্রকল্পকে নিজের বাড়িতে বসিয়েছেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির (BJP) জেলা সহ সভাপতি বিরাজ বসু অভিযোগ করেছেন, ‘তৃণমূল উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু তাদের উন্নয়ন সীমাবদ্ধ নেতাদের বাড়িতেই। রাস্তা থেকেই দেখা যাচ্ছে করুণাকান্ত রায়ের বাড়িতে সরকারি টাকায় বসানো পানীয় জলের পাম্প ও সোলার লাইট। এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি।’

বিষয়টি সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ জাকারিয়া পারভিন কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তপতী রায় বলেন, ‘এই টার্মে কোনও পানীয় জলের পাম্প বসানো হয়নি। সম্ভবত ২০২৩ সালের আগে, অর্থাৎ আগের বোর্ডের সময় এই প্রকল্পটি হয়েছে। কেন ওই জায়গায় বসানো হয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে জানাব।’

করুণাকান্ত অবশ্য দাবি করছেন, ‘গ্রামের মানুষই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বাইরে কোথাও পাম্প বসালে চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই আমার বাড়িতেই বসানো হয়েছে।’ সোলার লাইট প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি চড়া সুরে বলেন, ‘আমরাই পঞ্চায়েত সদস্য। যেখানে সিদ্ধান্ত নেব, সেখানেই বসবে।’ গ্রামের সাধারণ মানুষের এতে কী উপকার হচ্ছে, সে প্রশ্নের কোনও সদুত্তর তিনি দেননি।

‘উন্নয়নের পাঁচালি’ শুধু নেতার বাড়িতে হওয়ায় গ্রামজুড়েই ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতারাও সেই ক্ষোভের আঁচ পাচ্ছেন। আগামী ভোটে তার কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন দলের নীচুতলার নেতা-কর্মীরাও।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *