Cooch Behar | আটকে বিভিন্ন দপ্তরের কাজ! সরকারিভাবে বন্ধ বালি তোলা

Cooch Behar | আটকে বিভিন্ন দপ্তরের কাজ! সরকারিভাবে বন্ধ বালি তোলা

শিক্ষা
Spread the love


কোচবিহার: বালি অমিল। তাই বন্ধ হয়ে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ। যদিও নদী থেকে বালি তোলার লিজ রাজ্য সরকার বাতিল করবে এমন কোনও নির্দেশিকার কথা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। অথচ সরকারিভাবে বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির কেউই আর নদী থেকে বালি-পাথর তুলতে সাহস করতে পাচ্ছে না। ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালি-পাথর, মাটি তোলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে তার সঙ্গে এখন নদীর বুক থেকে সরকারিভাবে বালি তোলার কাজও বন্ধ।

কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, এতদিন বেআইনিভাবে চলতে থাকা বালি খাদানের লোকেদের কাছ থেকেই বালি জোগাড় করতেন কনট্রাক্টররা। আচমকা সেই ‘সাপ্লাই চেন’ বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই কাজের সমস্যা হচ্ছে। জেলাজুড়ে চলতে থাকা বিভিন্ন দপ্তরের কাজ বালির অভাবে বন্ধ হয়ে আছে। একসময় নিয়ম ছিল, যেই জায়গার নদী সেই জায়গা থেকেই বালি তোলার অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু তৃণমূল সরকার আসার পর নিয়ম পরিবর্তন হয়। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কলকাতা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হত। আর এতেই রমরমিয়ে বেআইনি কারবার চলছিল। ধরা যাক, তোর্ষার একটা অংশে ১০০০ সিএফটি বালি তোলার বরাত পাওয়া গিয়েছে। অথচ সেখান থেকে তার থেকে কয়েকগুণ বেশি বালি তোলা হচ্ছিল। এব্যাপারে কোনও নজরদারি ছিল না। এভাবেই সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলত।

এছাড়া সরকারি নিয়মে, একটা ট্র্যাক্টর-ট্রলি দিনে একবার বালি নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু একই রয়্যালটির কাগজ দেখিয়ে দুই-তিনবার বালি পরিবহণ চলত। অভিযোগ, কয়েকটি ট্র্যাক্টর-ট্রলি আটক করা হলেও বেশিরভাগ সেটিং তত্ত্বে চলত। সেক্ষেত্রে পুলিশ, প্রশাসন, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর ও আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরের একাংশের জড়িত থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ‘সরকার পরিবর্তনের পর আর বালি তুলতে সাহস পাচ্ছে না বরাতপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলিও।’ বললেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পূর্ত দপ্তরের এক ঠিকাদার। একই কথা শোনা গেল মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেটের আরেক ঠিকাদারের কাছেও। তাঁর দাবি, ‘আমাদের বেশি দাম দিয়ে এদের কাছ থেকে বালি নিতে হত। অন্য উপায় ছিল না। সরকারিভাবে বালির নির্দিষ্ট কোনও রেট বেঁধে দেওয়া নেই তাই যে যেমন খুশি তেমন রেট রাখত। ৪০-৫০ টাকা সিএফটির বালি নিতে খরচ হত ৮০-৯০ টাকা।’

শুধু সরকারি কাজেই নয়, যে কোনও নির্মাণকাজেও বাড়তি টাকা দিয়ে বালি কিনতে হত বলে অভিযোগ। এদিকে বালির অভাবে কোচবিহার শহরে সাবিত্রী লজের পাশে ‘জাজেস কোয়ার্টার’-এর কাজ থমকে রয়েছে। মাথাভাঙ্গার শিবপুর বাওড়া রোডের কাজও বন্ধ। এছাড়া মাথাভাঙ্গা হাসপাতালে সংস্কারের কাজও আটকে। জানালেন পূর্ত দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মৃন্ময় দেবনাথ। একইভাবে কাজ আটকে রয়েছে এমইডি-র। সেখানকার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অভিনন্দন দিন্দা বলেন, ‘বালি না মেলায় অমরতলার হিমাদ্রি সরণিতে কাজ অর্ধেক হয়ে পড়ে রয়েছে। কামেশ্বরী রোড বাইলেনে পেভার্স ব্লকের কাজও বন্ধ।’ এবিষয়ে জেলা বিজেপির সহ সভাপতি বিরাজ ঘোষ বলেন, ‘যাঁরা এতদিন সরকারি কাগজ নিয়েও অবৈধভাবে বালি তুলে এসেছেন, তাঁরাই ভয়ে বালি তোলা বন্ধ রেখেছেন হয়তো। কিন্তু আর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া যাবে না। প্রশাসন অবশ্যই এনিয়ে পদক্ষেপ করবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *