উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার জন্য এবার ট্রাম্প প্রশাসনের কোপের মুখে পড়ল ভারতীয় সংস্থা। ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে (Iran Oil Commerce) ভারতের চারটি সংস্থার (Indian Corporations) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা (US)। এই তালিকায় তিনজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অধীনে এই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই ভারতীয় সংস্থাগুলির মাধ্যমে আনুমানিক ১১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের লেনদেন হয়েছে ইরানের সঙ্গে। এর মধ্যে ‘সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড’ একাই প্রায় ৬৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এছাড়া ‘পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ যথাক্রমে ২৫ মিলিয়ন ডলার করে ইরানি তেল আমদানি করে অভিযুক্ত হয়েছে। চতুর্থ সংস্থা ‘পোর্টেজ পার্টনার্স এলএলপি’-র বিরুদ্ধে ভারতে ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল চালান আমদানিতে মধ্যস্থতা করার অভিযোগ রয়েছে।
তিনজন ভারতীয় নাগরিক—পিপি সফটটেকের ডিরেক্টর প্রশান্ত গর্গ এবং পোর্টেজ পার্টনার্সের ইন্দ্রিসমিয়া আশারফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট একে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যেকোনও ধরণের অর্থনৈতিক যোগাযোগ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে। উল্লেখ্য, এই তালিকায় চিন ও হংকংয়ের প্রায় ২০টি সংস্থা এবং ৪ জন নাগরিক সহ মোট ৬০ জন ব্যক্তি, সংস্থা এবং জাহাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রক আমেরিকার এই পদক্ষপের তীব্র সমালোচনা করে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে। ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ জানিয়েছেন, দুই বছরের বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে ইরান এই নিষেধাজ্ঞা প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবাফ আমেরিকার এই হুমকিকে ‘ফাঁকা আওয়াজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ফলে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও, আগামী দিনে নতুন কূটনৈতিক পরিস্থিতি কী রূপ নেয় সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

