উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ (Umar Khalid), শারজিল ইমাম (Sharjeel Imam)-সহ অন্য অ্যাক্টিভিস্টদের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করল দিল্লি পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে লালকেল্লা বিস্ফোরণ এবং ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’-এর সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ টেনে দাবি করা হয়েছে যে, শিক্ষিত শ্রেণির সন্ত্রাসবাদীরা সাধারণ সন্ত্রাসবাদীদের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক।
বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। দিল্লি পুলিশের হয়ে সওয়াল করেন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল (ASG) এসভি রাজু। এএসজি রাজু আদালতকে জানান, একটি নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে বুদ্ধিজীবীরা সরকারি অনুদান ব্যবহার করে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছেন এবং তারপর রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বুদ্ধিজীবীরা যখন সন্ত্রাসী হন, তখন তাঁরা ময়দানে থাকা অন্যান্য সন্ত্রাসবাদীদের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন। এই বুদ্ধিজীবীরাই আসল মস্তিষ্ক।”এই যুক্তির সমর্থনে এএসজি রাজু সম্প্রতি জায়েশ-ই-মহম্মদ সমর্থিত একটি ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’-এর চক্রান্ত ফাঁস এবং লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনাটি উল্লেখ করেন।
দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, ২০২০ সালের দাঙ্গা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি “সুসংগঠিত, পূর্বপরিকল্পিত এবং সুচিন্তিত” আক্রমণ। এএসজি রাজু দাবি করেন, অ্যাক্টিভিস্টদের মূল লক্ষ্য ছিল দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসন পরিবর্তন ঘটানো।
শারজিল ইমামের প্রসঙ্গে এএসজি রাজু বলেন, তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট। তিনি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ভাষণ দেন। পুলিশ আরও দাবি করে যে, অভিযুক্তরা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার এবং অসমের ‘চিকেন নেক’-কে অর্থনৈতিকভাবে অবরোধ করার ষড়যন্ত্র করেছিল।
এএসজি রাজু আরও দাবি করেন, “এই পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয়েছিল যাতে এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সঙ্গে মিলে যায়। এটা কোনও কাকতালীয় ঘটনা ছিল না, বরং সুচিন্তিত ষড়যন্ত্র ছিল।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজর কাড়ার জন্যই ট্রাম্পের সফরের সময়কে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভের আবহে সংঘটিত সেই দাঙ্গায় ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ৭০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উমর খালিদ, শারজিল ইমাম-সহ অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ (UAPA)-এর ধারায় মামলা চলছে।
