শাহি মসজিদের একাংশ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই নিয়ে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল উজ্জয়িনী। সোমবার মসজিদের কিছু অংশ ভাঙার কাজ শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু সেই কাজ শুরুর আগেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। মসজিদ চত্বরে এসে পৌঁছন মহিলারাও। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে র্যাফ নামাতে হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। জানা গিয়েছে, মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সীমস্থ মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করতে বড়সড় পরিকাঠামো গঠনের পরিকল্পনা করছে উজ্জয়িনীর পুর নিগম। তার জন্য অন্তত ২৭২টি নির্মাণ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে শাহি মসজিদও। পুর নিগমের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের হয় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে। কিন্তু মেলার কথা মাথায় রেখে উচ্চ আদালত ওই পিটিশন খারিজ করে। তারপর সোমবার শাহি মসজিদের প্রার্থনা কক্ষ, মিনার-সহ কয়েকটি অংশ ভাঙার কাজ শুরু করতে যায় প্রশাসন। অভিযোগ, সেসময়ে পাথর ছুড়তে থাকেন বিক্ষোভকারীরা।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি ক্রমাগত উত্তপ্ত হতে থাকে মসজিদ এলাকায়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। জানা গিয়েছে, বিক্ষোভের একেবারে পুরোভাগে ছিলেন মহিলারা। তাঁদের সরাতে কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হয়। মসজিদ এলাকায় নামানো হয় র্যাফ। অন্তত ২ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়। মসজিদের ৫০০ মিটার এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। ব্যারিকেড বসিয়ে আটকানো হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি বলেন, “আরও সংবেদনশীল হিসাবে রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করা উচিত ছিল। উন্নয়নের নামে ৬০০ বছরের পুরনো স্থাপত্য ভেঙে ফেলাটা ঘৃণা ছড়ানোর সমান। আমজনতা মানসিকতাকে সম্মান জানিয়ে অন্যদিক থেকেও রাস্তা তৈরি করা যেত।” অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব নিজের পৈতৃক ভিটের একাংশ ভেঙে ফেলেছেন রাস্তা তৈরির স্বার্থে। জানা গিয়েছে, ৭৩০ মিটার লম্বা একটি রাস্তা তৈরি হবে। সেকারণেই ভাঙতে হবে ২৭২টি নির্মাণ। কিন্তু সেই নিয়ে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল উজ্জয়িনী।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
