উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Courtroom) থেকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক সুরক্ষাকবচ পেলেন ‘পলাতক’ বলে চিহ্নিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal Supreme Courtroom)। বুধবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর যৌথ ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি সম্পন্ন হয়। শুনানিতে আদালতের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ জারি করা হয়েছে যে, আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে টুলু মণ্ডলকে কলকাতায় ফিরতেই হবে। তিনি যে দিন কলকাতায় আসবেন, সেই দিন থেকে পরবর্তী তিন সপ্তাহের জন্য এই আইনি সুরক্ষা বলবৎ থাকবে। তবে নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ১৭ নভেম্বরের মধ্যে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশে না পৌঁছান, সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ করার সমস্ত পথ খোলা থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এর আগে মঙ্গলবারই শীর্ষ আদালতে নিজের সুরক্ষার আর্জি জানিয়ে আইনি আবেদন করেন টুলু। শুনানির সময় তাঁর পক্ষে সওয়াল করে আইনজীবী বলেন, “আমি দেশের সব থেকে বড় অপরাধী নই। আমাকে দু’সপ্তাহের জন্য রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। আমি দেশে আসব, যেখানে হাজিরা দিতে বলবেন, আমি হাজিরা দেবো। তার পরে আরও দু’ তিন সপ্তাহের জন্য রক্ষাকবচ বহাল রাখা হোক।” অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে পালটা যুক্তি পেশ করে জানান, এই বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা নয়। টুলু মণ্ডল মূলত একটি বিশাল অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত। ক্ষেত্রবিশেষে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে আরও এফআইআর দায়ের করার আবশ্যিকতা তৈরি হতে পারে। তুষার মেহতা সওয়ালে আরও যোগ করেন, “অন্য বিষয়ে তাঁর যোগাযোগ আছে। আদালতের সুরক্ষাকবচ কাজে লাগিয়ে যতদিন বাংলায় থাকবেন, সেই সময়ে প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেন।”
মামলার সমস্ত বক্তব্য শুনে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পাশাপাশি কলকাতায় অবতরণের পর টুলু মণ্ডল নির্দিষ্ট করে কাকে রিপোর্ট করবেন, সে বিষয়ে রাজ্যের মতামত জানতে চান। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের রায়ের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেও সওয়ালে জানান, আদালত যা বলবে তাঁরা তা মান্য করবেন, কিন্তু তিন সপ্তাহের সময়সীমা কিছুটা দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। পালটা পর্যবেক্ষণে বিচারপতি দত্ত জানান, যেহেতু ১৭ নভেম্বর টুলু কলকাতায় (Kolkata) ফেরার কথা বলেছেন, তাই তাঁকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। ফলে আদালতের এই স্পষ্ট নির্দেশের পর নির্দিষ্ট দিন থেকে পরবর্তী ৩ সপ্তাহের সুরক্ষাকবচ বহাল রেখে ১৭ নভেম্বরের মধ্যেই তাঁকে কলকাতায় ফেরত আসতে হচ্ছে।

