উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Election Outcome) বড়সড়ো ধাক্কার মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি (Republican Occasion)। ভোট গণনার শুরুর দিক থেকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছিল যে, রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যবাহী লাল দুর্গগুলোতেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে ফেলেছে নীল শিবিরের ডেমোক্র্যাটরা (Democratic Occasion)। নির্বাচনি এই ভরাডুবির পর নিজের অবস্থান রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ফলাফলের ধাক্কা সামলাতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তা দিয়ে লেখেন, “ব্যালটে আমার নাম ছিল না। যদি থাকত, তা হলে বড় ভোটে জিততাম।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, ভোটবাক্সে দলের বিপর্যয় ঘটলেও নিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় যে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি, সেটাই তিনি তুলে ধরতে চাইছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই বিপর্যয় থেকে নিজেকে কৌশলগত দূরত্বে রাখতেই এমন বয়ান তৈরি করছেন ট্রাম্প। অথচ ভোটের প্রচার পর্বে ছবিটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। নির্বাচনের আগে ভোটারদের চাঙ্গা করতে ট্রাম্প নিজেই আহ্বান জানিয়েছিলেন, ব্যালট পেপারে তাঁর নাম রয়েছে বলেই যেন সবাই ধরে নেন এবং সেই অনুযায়ী ভোট দেন। কিন্তু ভোটের ফলে উল্টো সুর দেখা যাওয়ায় নিজের বক্তব্য বদলে ফেললেন তিনি। বহু ভোটার সেই আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পথ প্রশস্ত হয়, যার ফলশ্রুতিতে নিজের সুর পালটাতে বাধ্য হন ট্রাম্প।
অবশেষে বুধবার নিজের দলের এই পরাজয় আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু পরাজয় স্বীকারই নয়, দেশের স্বার্থে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, “ওদের (ডেমোক্র্যাট) সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।” সেই সঙ্গে তিনি এ-ও যুক্ত করেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই রায়কে তিনি ‘পুরোপুরি’ মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন। ফলে আগামীদিনে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট এবং ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিপাক্ষিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক রাজনীতির।

