সায়নদীপ ভট্টাচার্য, তুফানগঞ্জ: একসময় ভোটের প্রচার মানে ছিল হাতে আঁকা ব্যানার, পোস্টার, দেওয়াল লিখন। কিন্তু যুগ বদলেছে। তাই ভোটের প্রচারেও লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। হাতে লেখা ব্যানার বা পোস্টারের জায়গায় প্রার্থীদের ভরসা ডিজিটাল ফ্লেক্স। ফলস্বরূপ চিত্রশিল্পীদের চাহিদা বেশ কমে গিয়েছে। এর প্রভাব তাঁদের জীবিকাতেও পড়েছে।
তবে, এই শিল্পীরা হারিয়ে যাননি। তুফানগঞ্জ (Tufanganj)-২ ব্লকের বক্সিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দোকানে এখনও রংতুলি হাতে তাঁদের দেখা মেলে। কিন্তু আগের মতো এই দোকানগুলিতে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের আনাগোনা চোখে পড়ে না। এবিষয়ে চিত্রশিল্পী মিঠুন বর্মন বলেন, ‘ভোট এলেই আমরা কাজের বরাত পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু ডিজিটাল ফ্লেক্সের (Digital Flex) এই যুগে আমাদের আর খুব একটা ডাকেন না রাজনৈতিক নেতারা।’
ভোটের মরশুমে একসময় এই শিল্পীদের দিন কাটত চরম ব্যস্ততায়। দিনরাত পরিশ্রম করে কাপড়ের ওপর রংতুলির টানে তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীক, স্লোগান কিংবা উন্নয়নের বার্তা ফুটিয়ে তুলতেন। কোথাও চোখে পড়ত কাপড়ে আঁকা দলের প্রতীক, কোথাও বা হাতে লেখা স্লোগান। সব মিলিয়ে এলাকার রাস্তাঘাটের ছবি বদলে যেত। কিন্তু সেই দৃশ্য এখন আর সেভাবে চোখে পড়ে না। বর্তমানে শহর হোক বা গ্রাম- সব জায়গায় চোখে পড়ে বড় বড় ডিজিটাল ফ্লেক্স ও হোর্ডিং।
বক্সিরহাটের চিত্রশিল্পী জগদীশ দেবনাথ বলেন, ‘আগে ভোটের সময় আমরা অনেক কাজ পেতাম। রোজগারও ভালো হত। কিন্তু এখন ফ্লেক্সের যুগে ভোটের প্রচারের কাজ থেকে অনেকটাই দূরে চিত্রশিল্পীরা। আর্থিক সংকটে পড়েছেন আমাদের মতো শিল্পীরা।’
ডিজিটাল ফ্লেক্সে কেন ভরসা রাখছেন নেতারা এই প্রশ্নের উত্তরে ডিওয়াইএফআই জেলা কমিটির সম্পাদক ইউসুফ আলি বলেন, ‘হাতে আঁকা ব্যানার, পোস্টার অনেকাংশে পরিবেশবান্ধব। তবে অনেকটাই ব্যয়বহুল। অপরদিকে, ডিজিটাল ফ্লেক্সে খরচ কম। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়েও এগুলি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম।’
আবার তুফানগঞ্জ-২ ব্লক সভাপতি নিরঞ্জন সরকারের মতে, ‘হাতের কাজে সময় অনেকটাই বেশি লাগে। নির্বাচনের মুহূর্তে তড়িঘড়ি প্রচারে নামতে হয়। সেক্ষেত্রে সময়ের অভাব থাকে। তাই ডিজিটাল ফ্লেক্সের ওপর ভরসা করতে হয়।’
ডিজিটাল ফ্লেক্স ব্যবসায়ী হিমাংশু দেবনাথ বলেন, ‘বিভিন্ন আকারের ফ্লেক্সের মূল্য বিভিন্ন ধরনের। রাজনৈতিক দলগুলি বরাত দিচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু কাজ পেয়েছি। আশা করছি আরও কাজ পাব।’
