গৌরহরি দাস, কোচবিহার: কেবল আবেগ নয়, স্ট্র্যাটেজিতে সমান জোর তৃণমূল কংগ্রেসের (Cooch Behar TMC Technique)।
মঙ্গলবার ২৯১ আসনের প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করেছে শাসকদল। আর তার ঠিক পরদিন, বুধবার কোচবিহার (Cooch Behar) জেলার নয় কেন্দ্রের প্রার্থী ও ব্লক সভাপতিদের নিয়ে একটি বৈঠক করে তৃণমূল। মূল উদ্দেশ্য, রণকৌশল তৈরি। ওই বৈঠকে প্রতিটি বুথে রাজ্য সরকারের সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে তৈরি ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ নামে ২৫-৩০ মিনিটের একটি ভিডিও প্রোজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের নির্দেশ। এছাড়া উন্নয়নের বার্তা নিয়ে প্রার্থীদের সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে প্রচারে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ের ওই বৈঠকে দলের জেলার নয় প্রার্থী ও ব্লক সভাপতি ছাড়াও সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন উপস্থিত ছিলেন। দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিককে (হিপ্পি) কোচবিহার দক্ষিণে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘দলের নির্বাচনি স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর মাধ্যমে যেভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে চক্রান্ত করেছে, নির্বাচনে মানুষ এর জবাব দেবে।’ জগদীশ বলেন, ‘এত সংখ্যক মানুষকে বিচারাধীন রেখে নির্বাচন কমিশন যেভাবে ভোট ঘোষণা করেছে, এটা ঠিক হয়নি।’ ফলাফল প্রসঙ্গে তাঁর উত্তর, ‘সিতাই বরাবর কোচবিহারের মধ্যে এগিয়ে থাকে, এবারও তাই থাকবে।’
কোচবিহার জেলার নয়টি আসনের মধ্যে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ছয়টি আসনে জয় পায় বিজেপি। যে কারণে এবার তৃণমূলের প্রার্থী বাছাইয়ে অনেকটাই কর্পোরেট স্টাইল দেখা গিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। সেখানে স্ট্র্যাটেজি ও ভোটের অঙ্ককেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তুফানগঞ্জে ক্রিকেটার শিবশংকর পালকে প্রার্থী করেছে শাসকদল। নাটকীয় কায়দায় শীতলকুচিতে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন রায়ের ছায়াসঙ্গী হরিহর দাসকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। অভিজিতের বক্তব্য, ‘আগে মনে করেছিলাম কয়েকটি আসনে আমাদের লড়াই করে জিততে হবে। কিন্তু ভালো প্রার্থী পাওয়ায় এখন ওই আসনগুলিতে আমরা ভালো জায়গায় রয়েছি।’ তাঁর সংযোজন, ‘তুফানগঞ্জে শিবশংকর পালকে পেয়েছি। তিনি জনপ্রিয় ক্রিকেটার। ফলে আমাদের আর চিন্তা নেই।’ গিরীন্দ্রনাথ বলেন, ‘নতুন মুখ নতুন উদ্যম। তারা আরও বেশি ভোট পাবে।’
অন্যদিকে, ক্রিকেটের পিচ ছেড়ে এবার রাজনীতির ময়দানে বিপক্ষকে ‘ক্লিন বোল্ড’ করতে প্রস্তুত ‘ম্যাকো’ শিবশংকর। তৃণমূলের টিকিট পেয়ে তিনি বলেন, ‘তুফানগঞ্জ থেকে কলকাতায় গিয়ে রঞ্জি দলে আমি এতবছর খেলেছি। ভারতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছি। সেই জার্নিটা অনেক কঠিন ছিল। কারণ পুরোটাই ছিল অচেনা। কিন্তু তুফানগঞ্জে আমি বড় হয়েছি। এখানের মাঠঘাট, রাস্তা, বাড়িঘর, মানুষজন সব আমার নখদর্পণে। ফলে এই লড়াইটা আমার কাছে কঠিন নয়। কেউ একদিনে বড় নেতা হয় না। জিতলাম, চলে গেলাম- এটা করলে হয় না। আমি জিতলে সারাবছর থাকব। এখানের মানুষের সমস্যার কথা বিধানসভায় তুলে ধরব।’
