উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ জল্পনার অবসান। সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে(TMC-Reshuffle) শুক্রবার কালীঘাটের হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বড়সড় রদবদল করল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতা সুব্রত বক্সীকে। তাঁর জায়গায় নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাতে সংগঠনের চাবিকাঠি তুলে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধারে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষার বার্তা দিলেন।
নেতৃত্বে বড়সড় রদবদল: এক নজরে
- রাজ্য সভাপতি: চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (সুব্রত বক্সীর স্থলাভিষিক্ত)।
- যুগ্ম জাতীয় সাধারণ সম্পাদক: সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে থাকছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর পাশাপাশি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পেলেন দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন।
- ছাত্র সংগঠন: তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের জায়গায় নতুন মুখ প্রিয়াঙ্কা অধিকারী।
- শ্রমিক সংগঠন: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলে দায়িত্বে মলয় ঘটক।
- হকার সংগঠন: আলাদা দায়িত্ব পেলেন মদন মিত্র।
- যুব সংগঠন: আপাতত অপরিবর্তিত, দায়িত্বে সায়নী ঘোষই বহাল।
দলের অন্দরের খবর, সম্প্রতি নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না পাওয়ার পর কর্মীদের মনোবল ফেরাতে এবং সংগঠনের জড়তা কাটাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। অন্যদিকে, মলয় ঘটকের মতো পোড় খাওয়া নেতাকে শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া শিল্পাঞ্চলগুলিতে দলের ভিত মজবুত করার কৌশলী চাল বলেই মনে করা হচ্ছে। মদন মিত্রকে হকার সংগঠনের আলাদা দায়িত্ব দিয়ে তৃণমূল স্পষ্ট করেছে যে, হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়গুলো এবার সরাসরি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে দল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের পর্যবেক্ষণ, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলে ‘ওয়ান ম্যান শো’ বা একক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু সরিয়ে একাধিক স্তরের নেতৃত্বকে সামনে আনার চেষ্টা করছে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অভিজ্ঞদের সংমিশ্রণে একটি নতুন ‘টিম’ তৈরি করাই এখন হাইকম্যান্ডের লক্ষ্য। আগামী দিনে এই নতুন নেতৃত্ব কতটা সফলভাবে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে তৃণমূলকে আবার জয়ের সরণিতে ফেরাতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
