রায়গঞ্জ: চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় উত্তর দিনাজপুর (TMC Job Rip-off)। তৃণমূলের প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী গোলাম রব্বানী ও প্রাক্তন শিক্ষাপ্রতি মন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মনের ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে পরিচিত তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন প্রতারিত এক যুবক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রায়গঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন খুরশেদ আলম নামে ওই ব্যক্তি।
প্রতারিত খুরশেদ আলম হেমতাবাদ থানার চৈনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভরতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর দায়ের করা অভিযোগে অভিযুক্তদের নাম: ১. আনিসুর রহমান: হেমতাবাদের নওদা গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রুপ সি কর্মী এবং সত্যজিৎ বর্মনের ছায়াসঙ্গী। ২. নবীন দাস: চোপড়ার সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত সহায়ক এবং গোলাম রব্বানী ও জেলা সভাপতি কানাইয়া লাল আগরওয়ালের ছায়াসঙ্গী। ৩. ফরিদা বানু: হেমতাবাদ ব্লকের তৃণমূল সভানেত্রী ও চৈনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য।
অভিযোগকারী খুরশেদ আলম জানান, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি ফরিদা বানুর সচিব হিসেবে কাজ করতেন। সেই সুবাদে আনিসুর ও নবীনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। হাইস্কুলে কেরানির চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। ২০২১ সালে তাঁকে একটি জাল নিয়োগপত্র দিয়ে মুর্শিদাবাদের একটি স্কুলে যোগ দিতে পাঠানো হয়, সেখানেই তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। শুধু খুরশেদ নয়, তাঁর ভাই, দাদা ও পরিবারের সদস্যদের জন্য চাকরি দেওয়ার নাম করে আরও ৫৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা শাসক এবং সংশ্লিষ্ট বিডিওদেরও জানানো হয়েছে।”
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় (১১৫, ৩১৬, ৩৩৬, ৩০৮, ৩১৮, ৩৫১) মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে অভিযোগ দায়েরের পরই অভিযুক্তরা পলাতক বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর এই দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় জেলায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

