রায়গঞ্জ: বাড়ির সংখ্যা কম নয়, রয়েছে গাড়িও। পুরসভার একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মীর এমন বিলাসবহুল জীবন কী করে? প্রতিবেশীদের মধ্যে এমন প্রশ্ন নতুন নয়, কিন্তু তা ছিল আড়ালে। কিন্তু মাতৃসদনের ম্যানেজার পদ থেকে জয়দেব দাস ইস্তফা দিতেই এমন নানা প্রশ্ন প্রকাশ্যে শোনা যাচ্ছে রায়গঞ্জ (Raiganj) শহরের পশ্চিম বীরনগর এলাকায়। চর্চায় তাঁর পদত্যাগ প্রসঙ্গও। কেন তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হল না, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। তদন্তের জন্য তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রকাশ্যে আসছে একের পর এর দুর্নীতি। বাড়ছে গ্রেপ্তারির সংখ্যা। অধিকাংশই তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি বা নেতা। রায়গঞ্জে আলোচনায় মাতৃসদনের ম্যানেজার জয়দেব দাস। পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী হয়ে জয়দেব কীভাবে এত সম্পত্তি করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এলাকায়। পশ্চিম বীরনগরের এক বাসিন্দার দাবি, মাসিক প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা বেতন পেলেও জয়দেবের নামে ফ্ল্যাট, জমি, বাড়ি, দোকান ও গাড়ি রয়েছে। স্থানীয় অচিন্ত্য কুণ্ডু বলেন, ‘জয়দেব দাসদের ভালোমতো চিনি। আগে মুড়ি খাওয়ার পয়সা ছিল না। মাতৃসদনে চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে ঢোকার পর প্রসূতি মায়েদের পরিবারের থেকে পাওয়া টাকা পুরসভার অ্যাকাউন্টে জমা না করে কয়েকজন মিলে আত্মসাৎ করছে।’ তবে অনেকেই জানেন না জয়দেবের টাকার উৎস। জয়দেব তাঁদের সঙ্গে মেলামেশা করেন না বলে প্রতিবেশী অনেকের বক্তব্য।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জয়দেব বলেন, ‘ওষুধের ব্যবসা রয়েছে আমার এবং মাতৃসদনের রোগীদের ওষুধ সরবরাহ করতাম। শিলিগুড়িতে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। একটি চার চাকার গাড়ি, একটি জমি ও বাড়ি আছে। বিদ্রোহী মোড়ে ওষুধের দোকানটি বন্ধ।’ হিংসায় পাড়ার কিছু মানুষ তাঁর সম্পর্কে অপপ্রচার করছে বলেও তাঁর অভিযোগ। পুরসভার অন্য বিভাগগুলির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও শুধুমাত্র তাঁকেই লক্ষ্য করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জানা গিয়েছে, পুরসভার বিস্তর অভিযোগ থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। মিলছে না অডিট রিপোর্ট। এই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে জয়দেব বলেন, ‘আমি তো অডিট করাই না। পুর কর্তৃপক্ষের কাছে সবকিছু থাকবে। ফাইলপত্র না পাওয়া গেলে আমার কী করার আছে? আমার আগে আরেকজন দায়িত্বে ছিলেন, তার সম্পর্কেও তো শুনেছি অনেক অভিযোগ। স্টোর নিয়েও অভিযোগ শুনেছি। ইন্দিরা আবাস নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা তো বহালতবিয়তে কাজ করছেন। শুধু আমি কেন?’
রায়গঞ্জ পুরসভার (Raiganj Municipality) প্রশাসক তথা মহকুমা শাসক তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অডিট রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। চলতি সপ্তাহেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত বিষয় স্পষ্ট হবে বলে আশা রাখি। জয়দেব দাসের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি।’ মাতৃসদনে জল সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত মেরামতের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক হলে শীঘ্রই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা হবে বলে তিনি জানান।

