রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: এ যেন উলটপুরাণ! খড়িবাড়ি (Kharibari) ব্লকের রানিগঞ্জ-পানিশালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান ঘাসফুলের প্রধানকে সরাতে পদ্ম শিবিরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অনাস্থা আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃণমূলেরই (TMC) এক শ্রমিক ও শিক্ষক নেতা। বিষয়টি নিয়ে বর্তমান প্রধান সান্ত্বনা সিংহ বলেন, ‘আমি ভালোভাবেই কাজ করছি। বোর্ড ভাঙার জন্য কে বা কারা চেষ্টা করছে বলতে পারব না।’
সূত্রের খবর, বর্তমান প্রধানকে সরিয়ে ওই শ্রমিক নেতার স্ত্রীকে প্রধান পদে বসিয়ে নিজে উপপ্রধান পদে বসতে চাইছেন শিক্ষক নেতা। এই ধরনের খবর কানাঘুষো হতেই দলের একাংশের বক্তব্য, এই ধরনের কাজকর্ম দলবিরোধী। বর্তমান প্রধানকে সরানোর চক্রান্ত হলে বিদ্রোহ হবে। এর দায় জেলা নেতৃত্বকেই নিতে হবে।
তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ বললেন, ‘রানিগঞ্জ-পানিশালিতে বর্তমান বোর্ড ভালোভাবেই কাজ করছে। দলীয়ভাবে প্রধানকে সরানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। সেখানে অনাস্থা এনে বর্তমান প্রধানকে সরানোর পরিকল্পনা কে করছে বলতে পারব না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
২০২২ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে রানিগঞ্জ-পানিশালি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৭টি আসনের মধ্যে ১৫টিতে জয়ী হয়ে ঘাসফুল শিবির বোর্ড গঠন করে। বিজেপি আটটি, সিপিএম সমর্থিত নির্দল তিনটি আসন পায়। একটি আসনে আদিবাসী বিকাশ পরিষদ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী জয়ী হন। সান্ত্বনা সিংহ প্রধান এবং তাপস মণ্ডল উপপ্রধান হিসাবে মনোনীত হয়ে আড়াই বছর ধরে বোর্ড চালাচ্ছেন।
কিন্তু এখন দলের একাংশ এই বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুনভাবে বোর্ড গঠনের ছক কষছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েক মাস ধরেই বিজেপি এবং নির্দল সদস্যদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে প্রধান বদল করতে তৃণমূলেরই একাংশ সক্রিয় হয়েছে। এনিয়ে এক শিক্ষক নেতার নেতৃত্বে কোয়ার্টার মোড় সংলগ্ন একটি হোটেলে দু’তিনবার বৈঠকও হয়েছে। সেখানে বোর্ড গঠনে সমর্থন দিলে প্রত্যেককে ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ওই শিক্ষক নেতার গোষ্ঠীর এক সদস্যের কথায়, ‘বিজেপি এবং নির্দলদের প্রায় প্রত্যেকেই অনাস্থায় সমর্থন দিতে রাজি হয়েছেন। বর্তমান প্রধান এবং উপপ্রধান বোর্ডের প্রত্যেক সদস্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রেও তাঁরা স্বজনপোষণ করছেন। তাই তাঁকে সরাতে হবে।’
সূত্রের খবর, বর্তমান প্রধানকে সরিয়ে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত এই প্রধান পদে দলের শ্রমিক সংগঠনের এক নেতার স্ত্রীকে বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁকে মেনে নিতে যদি বিজেপি এবং সিপিএম রাজি না হয় তাহলে বিকল্প হিসাবে আরও দুই নেতার স্ত্রীর নাম প্রস্তাব করা হবে।
